কুলাউড়ায় অনলাইন নিবন্ধনে কৃষকদের আগ্রহ কম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় এবার বোরো ধান বিক্রির জন্য প্রথমবারের মতো কৃষকের অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রচারণা চালায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কৃষকদের আগ্রহ কম দেখা যাচ্ছে।

কৃষি ও খাদ্য বিভাগ জানায়, ধান বিক্রিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোসহ কৃষকদের সময়, খরচ, হয়রানি ও ভোগান্তি কমাতে সরকার ‘কৃষকের অ্যাপ’ চালু করেছে। ‘পাইলটিং প্রকল্প’ হিসেবে দেশের মোট ২১০টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চলছে। কুলাউড়ায় এবার প্রথমবারের মতো এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৌসুমের শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে প্রচারপত্র বিলি করা, মাইকিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে প্রচারণা চালানো হয়। কৃষকরা নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করবেন। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম চলবে ১০ মে পর্যন্ত। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ২৭ টাকা কেজি দরে ধান কিনবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে। ক্ষুদ্র ১, মাঝারি ২ ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ৩ মেট্রিক টন করে ধান বিক্রি করতে পারবেন। ১৬ আগস্ট পর্যন্ত ধান বেচাকেনা চলবে।

কৃষি ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, কুলাউড়ায় এবার ৭ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। সেখানে বোরোচাষি রয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার। ধান সংগ্রহের বরাদ্দ ৯৯২ মেট্রিক টন। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪০০ জন কৃষক অনলাইনে নিবন্ধন করেন। ওই দিনই ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট কমিটির সভায় প্রথম দফায় ৪৯৬ মেট্রিক টন (মোট বরাদ্দের অর্ধেক) ধান কিনতে লটারির মাধ্যমে ৩০১ জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়।

আলাপকালে কুলাউড়া উপজেলার কয়েকজন বোরোচাষি বলেন, সরকারিভাবে গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে পরিবহন খরচ লাগে। এ ছাড়া সেখানে নেওয়ার আগে ধান ভালোভাবে শুকাতে হয়। ধানের মান ভালো হতে হয়। অন্যথায় ধান ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এসব কারণে ধান বিক্রিতে আগ্রহ কম তাদের। এ ছাড়া স্থানীয় ধান-চালের আড়তদাররা তাদের কাছ থেকে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ধান ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকায় কিনে নেন। আড়তদাররা বাড়ি থেকে ধান নিয়ে যান। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধানের মূল্য পড়ে ১ হাজার ৮০ টাকা (প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে)। সামান্য লাভের জন্য কেউ সরকারিভাবে ধান বিক্রি করতে গিয়ে ঝামেলা পোহাতে চান না।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিনয় কুমার দেব অনলাইনে নিবন্ধনে কৃষকদের আগ্রহ কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু তারা বাইরে ধান বিক্রি করে ফেলেন। এরপরও নির্ধারিত সময়ের বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাবে বলে আশাবাদী।’