বাড়িতেই ঈদের সাজ

ঈদ চলেই এলো। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এবারের ঈদও ঘরেই কাটাতে হবে। ঘরে থাকবেন বলে ঈদের সাজসজ্জা হবে নাÑ তা তো নয়। ঈদের দিনটাকে উৎসবের আনন্দে সাজিয়ে তুলুন। কেমন হতে পারে সকাল থেকে রাত অবধি আপনার সাজসজ্জা, তার পরামর্শ দিলেন শোভন মেকওভারের রূপবিশেষজ্ঞ শোভন সাহা

সকাল দুপুর ও রাতের সাজ

যেহেতু ঘরেই থাকবেন সেহেতু সাজ গর্জিয়াস আর সাদামাটা কোনোটাই চলবে না।  আবার সকাল সকাল ভারী সাজ আপনার জন্য বেমানান হবে। তার ওপর গরম তাই সাজে পরিমিত ভাব থাকবে। ঘুম ভেঙে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে গোসল করে নিন। ত্বকে ভেজাভাব থাকতেই ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন। শুকানোর পর ত্বকের ধরন বুঝে  হালকা ফেস পাউডার বুলিয়ে নিন। আর চোখের ওয়াটার লাইনে কাজল দিন। এর সঙ্গে ঠোঁটে ন্যাচারাল কালারের যেকোনো শেডে লিপকালার কিংবা গ্লস লাড়াতে পারেন। এবার ভেজা চুল শুকিয়ে নিন। যেহেতু ভ্যাপসা গরম তাই চুল শুকিয়ে বেঁধে রাখুন। সময়টা গরমের যেহেতু, সারা দিন খোলা চুলে কাটানো কষ্টকর। খোঁপা, বেণী, ঝুঁটি যাই পছন্দ করেন করে নিতে পারেন। এছাড়া পাঞ্চ ক্লিপ দিয়েও চুল আটকে রাখা যায়। কেউ চাইলে খানিকটা ভারী সাজও নিতে পারেন। এক্ষেত্রে চোখের পাতায় হালকা রঙের শ্যাডো দিতে পারেন। আর গালে ব্লাসন।

যেহেতু বাসায় আছেন সেহেতু এই সাজে সকাল থেকে দুপুর অবধি থাকতে পারেন। দুপুরে চাইলে সকালে যে লিপস্টিক ব্যবহার করছেন তা মুছে ভিন্ন রঙের একটা লিপস্টিক দিতে পারেন। চোখে আই লাইনার দিতে পারেন দুপুরের সাজে। এরকম ছোটখাটো বদল করেই দুপুরের সাজে ভিন্নতা আনুন। যে পোশাক পরবেন তার সঙ্গে মিলিয়ে লিপ কালারের রং বেছে নিন। আইশ্যাডোটা চাইলে আরও একটু গাঢ় করে নিতে পারেন। দুপুরের সময় বাসার সবাইকে আপ্যায়ন করতে ব্যস্ত থাকবেন সেহেতু  নিজেকে আগেই সেভাবে গুছিয়ে তৈরি থাকুন। বড় চুল হলে উঁচু করে খোঁপা করতে পারেন কিংবা পনিটেল করা যায়।

অনেকেরই দুপুরের পর বিকেলে হয়তো অবসর মিলবে। চাইলে পরিবারের সবাই মিলে ছাদে ঘুরে আসতে পারেন। তখন রোদের তেজ কমে আসবে বলে স্বস্তি থাকবে অনেকটাই। এ সময় চাইলে ঈদের পোশাকটি পরতে পারেন। আর যারা ঈদের পোশাক কিনেননি তারা তুলে রাখা পছন্দের পোশাকটি পরে নিন। মুখ ফেইস ওয়াশ দিয়ে ধুয়েমুছে লিকুইড ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন। ফাউন্ডেশনটি অবশ্যই পানিনিরোধক ও ভালো ব্র্যান্ডের হলে ভালো, এতে খুব একটা ঘামও হবে না। তবে আপনি চাইলে কনসিলার ব্যবহার করে ফাউন্ডেশন লাগাতে পারেন। এতে দেখতে ন্যাচারাল লাগবে। ফাউন্ডেশন দেওয়া শেষ হলে এরপর স্যাটিন পাউডার দিন। এতে চেহারায় ন্যাচারাল ভাব ফুটে উঠবে। বেস হয়ে যাওয়ার পর কনট্যুরিং করে নিতে পারেন। হালকা রং ব্যবহার করে গাল কেটে নিলে ভালো লাগবে। এরপর ব্লাসন লাগানোর পালা। ব্লাসনের ওপর যাদের বয়স অল্প তারা শিমার লাগাতে পারেন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নুড বেইজ লিপস্টিক লাগতে পারেন। চুল আয়রন করে ছেড়ে রাখতে কিংবা একপাশে বেণী, এলোখোঁপা বা কার্ল করে ছেড়ে রাখতে পারেন। চুলে নানা রকম ফ্লোরাল হেয়ারব্যান্ড ও হেয়ালক্লিপ ব্যবহার করা যায়।

জমকালো হবে ঈদের রাতের সাজ। হোক নিজের বাসায় আয়োজন, সেজেগুজে থাকতে চাইলে নিশ্চিন্তে বেছে নিন গাঢ় সব রং। বিকেলের সাজগোজে টাচআপ করে তাই রেখে দিতে পারেন, বা সময় থাকলে মুখ পরিষ্কার করে নতুনভাবে সাজতে পারেন। চোখের সাজ এবং লিপস্টিক একটু গাঢ় করে দিতে পারেন। চোখের স্মোকি সাজ রাতেই ভালো মানায়। তাই  রাতের সাজে চোখের সাজকে গুরুত্ব দিন। চোখে গ্লিটারের শ্যাডোও দিতে পারেন। আর ঠোঁটে গাঢ় রঙের লিপস্টিক।

ঈদের মেহেদি

ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে ঈদের মেহেদিতে। ঈদের মেহেদি নিয়ে মেহেদি আর্টিস্ট আফরোজা মুন

‘যাদের হাতের পাতা বড়, তারা হাতে ভরাট নকশা করলে ভালো দেখাবে। ছোট হাতের এক পাশে লম্বালম্বি ডিজাইন মানানসই। ফুল-পাতা ডিজাইনের সঙ্গে ময়ূর, কলকি, চরকা, পানপাতা দিয়ে আঁকা নকশা বেশ চলবে।’ এই ঈদে ছোট ছোট মোটিফে একটু হালকা নকশা যেমন চলবে, তেমনি অনেকে দুই হাত ভরে ঘন করেও মেহেদি লাগাতে পারেন। সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানিয়ে যাবে হালকা নকশার মেহেদি। সালোয়ার-কামিজ পরলে মেহেদির ডিজাইনটা তখন হাতের তালুতে বেশি নকশা দিয়ে ওপরটা হালকা রাখতে পারেন। কুর্তা বা লং কামিজের সঙ্গে কনুই পর্যন্ত মেহেদি না পরাই ভালো। অনেকে বাজুতেও মেহেদি লাগান। হাতকাটা কামিজ কিংবা ব্লাউজের সঙ্গে বাহুতে বাজুবন্ধের মতো সুন্দর আলপনা এঁকে নিতে পারেন। এ ছাড়া পায়েও অনেকে টিউব মেহেদি লাগান। সে ক্ষেত্রে পায়ের দুই পাশে চিকন কোনো ফুল বা পাতার ডিজাইন করতে পারেন। শিশুদের হাতের ক্ষেত্রে ছোট করে হালকা ডিজাইন ভালো লাগবে। আর বড়দের জন্য ছোট ছোট নকশা দিয়ে পুরো হাত ভরে কিংবা শুধু হাতের এক পাশ থেকে আঙুল পর্যন্ত নকশা করলে ভালো লাগবে। পুরো হাতভর্তি করে মেহেদি দিলে নকশা যেন সূক্ষ্ম হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা জরুরি। তালুর মাঝখানে স্পষ্ট গাঢ় নকশাও বেশ ছিমছাম দেখাবে। সূক্ষ্ম ডিজাইনের কিছুটা অংশ ভরাট করে নকশায় ফিউশন পছন্দ করেন অনেকে। মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা রেখে নকশাকে স্পষ্ট করে তোলা হয় এ ধরনের ডিজাইনে। নখের চারপাশে ভরাট করে মেহেদি দেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে নখে হালকা রঙের নেইলপলিশ লাগালে ভালো দেখাবে।

খেয়াল রাখুন

মেহেদি লাগানোর আগে হাতে ময়েশ্চারাইজার বা লোশনজাতীয় কিছু লাগাবেন না। মেহেদি ওঠানোর পর হাতে তেল ঘষে নিতে পারেন। দীর্ঘস্থায়ী হবে রং। এ ছাড়া লেবুর রস ও চিনির সিরাপ একসঙ্গে মিশিয়ে তুলা দিয়ে নকশার ওপর লাগালে মেহেদির রং গাঢ় হবে। সারা রাত হাতে মেহেদি রেখে দিলে রং ভালো হয়। মেহেদির রং গাঢ় করতে চাইলে মেহেদি শুকিয়ে গেলেও অন্তত আট ঘণ্টা পর্যন্ত হাতে পানি না লাগানো ভালো।