আইপিও শেয়ারে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার

আইপিওতে আসা নতুন কোম্পানির শেয়ার দরে অযৌক্তিক উল্লম্ফন রুখতে স্বাভাবিক সার্কিট ব্রেকার আরোপ করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এখন থেকে তালিকাভুক্তির পর পুঁজিবাজারে প্রথম দিনের লেনদেন থেকেই যেকোনো সিকিউরিটিজের ওপর সাধারণ সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে নতুন আদেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এতে করে আইপিতেও আসা কোনো শেয়ার কিংবা মিউচুয়াল ফান্ডের দর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারবে না।

আইপিওতে আসা শেয়ারের দাম নিয়ে কারসাজি ঠেকাতে সার্কিট ব্রেকারের নিয়ম পরিবর্তন করে বৃহস্পতিবার এমন আদেশ জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি। আদেশ জারির পর থেকে তা কার্যকর হবে বলে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম স্বাক্ষরিত এই আদেশে বলা হয়েছে।

এতদিন পর্যন্ত আইপিওতে আসা কোনো শেয়ারের দর প্রথম দুই দিন ৫০ শতাংশ করে বাড়তে পারত। তৃতীয় দিন থেকে সার্কিট ব্রেকারের সাধারণ নিয়মে শেয়ারের দাম ওঠানামা করে। নতুন আদেশ জারির পর ২০০ টাকা পর্যন্ত আইপিও শেয়ারের দর শুরু থেকেই ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারবে না। বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দর একদিনে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। আর ২০১ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত শেয়ারের দর ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে।

নতুন শেয়ার লেনদেনের পর শুরুতে উচ্চমূল্যে কেনাবেচা হওয়া এবং পরবর্তীতে এসব শেয়ারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের লোকসানের কারণে গত কয়েক বছর ধরেই অস্বস্তিতে রয়েছে এসইসি। এর আগেও একাধিকবার নতুন শেয়ারে লেনদেনের ক্ষেত্রে সার্কিট ব্রেকার সংশোধন করেছিল। তবে তা কাজে আসেনি। মৌলভিত্তি বিবেচনা ছাড়াই নতুন শেয়ারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে অযৌক্তিকভাবে দর বাড়তে শুরু করে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। এখন প্রথম দিন থেকেই সার্কিট ব্রেকারের সাধারণ নিয়ম প্রযোজ্য হলে দাম আর বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে না।

এর আগে সব বিনিয়োগকারী যাতে আইপিও শেয়ার পায় সেজন্য আইন সংশোধন করে এসইসি। সেকেন্ডারি বাজারে কোনো বিনিয়োগকারীর বাজার মূল্যে ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগ থাকলেই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারী আইপিও আবেদন করতে পারবেন এবং প্রো-রাটা বেসিস সব আবেদনকারী আইপিও শেয়ার পাবেন। 

বর্তমানে সার্কিট ব্রেকারের সাধারণ নিয়ম অনুসারে ৫০১ থেকে ১০০০ টাকা দামের শেয়ার দিনে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কমতে বা বাড়তে পারে। ১০০১ থেকে ২০০০ টাকা দামের শেয়ার দিনে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমতে বা বাড়তে পারে। এ ছাড়া ২০০১ থেকে ৫০০০ টাকা দামের কোনো শেয়ার দিনে ৫ শতাংশ কমতে বা বাড়তে পারে। আর ৫০০০ টাকার দামের বেশি শেয়ার দিনে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমতে বা বাড়তে পারে।