পাহাড়ে পানির সংকট নতুন নয়। প্রায় প্রতি বছর তীব্র দাবদাহে পাহাড়-টিলায় বসবাসকারী বাসিন্দারা পানি সংকটে পড়েন। সুপেয় পানির চরম সংকট থাকে এখানকার বাসিন্দারা। ছড়া-খালের পানি খেয়ে অনেকেই পেটের অসুখে ভোগেন।
জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকার কলাপাড়া, দুল্যাতলী পাড়া, দীঘিনালা উপজেলার নয়মাইল, পাঁচ মাইল, সীমানাপাড়া আর পানছড়ির ওয়াক্রাপাড়া, হেলাধুলা, কলাতলীপাড়াসহ অনেক পাহাড়ি গ্রামে পানির অভাবে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্গম পাহাড়ে বসবাস করা পাহাড়িদের বর্তমানে বড় চিন্তা পানি। কারণ পাহাড়ে আগের মতো আর পানি পাওয়া যাচ্ছে না। পানির প্রধান উৎস ছড়া-খালগুলোতে অল্প পানি দূষিত হয়ে আছে। অনেকগুলো শুকিয়েও যাচ্ছে। তাই রাত পোহালেই পানির খোঁজে ছুটতে হয় তাদের। অনেক এলাকায় মাইলের পর মাইল হেঁটে শত ফুট গভীরে পাহাড়ের পাদদেশে ছুটে যান তারা। পানির সন্ধান মিললেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সুপেয় পানির অভাবই বেশি।
এসব এলাকায় হাতেগোনা কিছু নলকূপ, গভীর নলকূপ থাকলেও এগুলোতে পানি ওঠে না। জেলার পানছড়ি উপজেলার প্রত্যন্ত হেলা ধুলাপাড়ার ১৫০-১৬০ পরিবারের পানীয় জলের অভাব। উপজেলার নতুনপাড়া, জোরমরম, বামাগোমতিসহ অনেক গ্রামের চিত্র একই রকম।
এছাড়া খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের আশপাশের সীমানাপাড়া, চার মাইল, পাঁচ মাইলসহ কয়েকটি গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট। জেলা সদরের ঠাকুরছড়া এলাকার দুর্গম কলাপাড়া, দুল্যাতলী পাড়ার মতো আরও বহু দুর্গম পাহাড়ি গ্রামে দুর্বিষহ অবস্থা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রেবেকা আহসান কোনো তথ্য দিতে অপারগতা জানিয়ে বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। কাগজপত্র এখনো পুরোপুরি দেখা হয়নি। কোনো তথ্য পেতে হলে এক-দুই মাস অপেক্ষা করতে হবে। তিনি তথ্য না দেওয়ায় খাগড়াছড়ির কত শতাংশ লোক খাবার পানি/ পাচ্ছে না তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ জানান, মূলত অবাধে পাহাড় কাটা বন উজাড় হওয়ায় পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে পাহাড়ের পানির সমস্যাটা তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে এসব এলাকায় দুর্ভোগের সীমা থাকে না। এলাকার মানুষ শুধু বিশুদ্ধ পানি নয়, গৃহস্থালি কাজের প্রয়োজনীয় পানিও সংগ্রহ করতে পারছে না।