ভারতে করোনার বিস্তার

নরেন্দ্র মোদির অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য : ল্যানসেট

ভারতের কভিড সংকটের জন্য এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কাঠগড়ায় তুলল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যানসেট। গত শনিবার এই জার্নালের সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নরেন্দ্র মোদির সরকারই দেশে কভিড বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। চাইলেই সরকার এই বিপর্যয় এড়াতে পারত। সাময়িকীর দাবি, মোদি সরকার মহামারীর মোকাবিলার চেয়ে টুইটারের সমালোচনা মুছতে বেশি ব্যস্ত। খোলামনে আলোচনাও করতে চায়নি। পরামর্শ নেয়নি। এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য।’

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আবহে দেশে অক্সিজেন ও টিকায় ঘাটতি, হাসপাতালে শয্যার অভাবের মতো একাধিক সমস্যা দেখা গিয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণও। গত কয়েক দিন ধরেই দেশের দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ৪ লাখের উপরে রয়েছে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাময়িকীটি লিখেছে, করোনা মোকাবিলায় মোদি সরকার তার প্রথম দফার সাফল্যকে তছনছ করে দিয়েছে। ভারত সরকার করোনা মোকাবিলার জন্য প্রথম পর্যায়ে যে টাস্কফোর্স তৈরি করেছিল, এপ্রিল মাসের আগে বেশ কয়েক মাস যাবৎ তারা কোনো বৈঠকই করেনি।

জানুয়ারির শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নিয়ে ভারতের কভিড জয়ের কাহিনী মেলে ধরেছিলেন। মার্চ মাসের শুরুতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা হর্ষবর্ধন ঘোষণা করেছিলেন, কভিডের খেলা শেষ। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা এবং ‘দ্য ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’-এর অনুমান উল্লেখ করে দ্য ল্যানসেট সম্পাদকীয়তে লিখেছে, ‘১ আগস্টের মধ্যে দেশে কভিডে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ লাখ ছুঁতে পারে। এই আশঙ্কা সত্য হলে নিজের তৈরি সংকটের জন্য মোদি সরকারই দায়ী থাকবে।’

দ্য ল্যানসেট লিখেছে, ‘বহুবার সতর্ক করা সত্ত্বেও সরকার ধর্মীয় উৎসব (কুম্ভ মেলা) পালন ও রাজনৈতিক সভার (পাঁচ রাজ্যের ভোটে প্রচার) মতো অতি সংক্রামক অনুষ্ঠান হতে দিয়েছে, যা সুপার স্প্রেডারের কাজ করেছে।’

ভারতের করোনা পরিস্থিতিকে মোদি সরকারের ‘নিজের তৈরি করা সংকট’ বলে মন্তব্য করে ল্যানসেট লিখেছে, ‘চাইলে এই বিপদ এড়ানো যেত। কিন্তু মোদি সরকারের ভুল স্বীকার করতে না চাওয়ার মনোভাবই সমস্যা বাড়িয়েছে। এখন ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই করোনা মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে ভারতকে।’