দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর পাঁচটি ঘরের টিন ঝড়ে উড়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে ঘরের পিলার, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্য ঘরও।
নবনির্মিত এসব ঘরের এমন অবস্থায় উপকারভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, পিলারে রড না দেওয়া এবং দায়সারাভাবে কাজ করায় সামান্য ঝড়ে এ অবস্থা হয়েছে।
গত সোমবার মধ্যরাতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় শুরু হয়। ঝড়ে আশপাশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদীপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর জয়বাংলা পল্লির আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ঘরের বারান্দাসহ ছাউনির টিন ও বর্গা উড়ে যায়। ভেঙে যায় বারান্দার পিলার। বসবাসের শুরুতেই ঘর ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এসব মানুষের মধ্যে। এসব ঘরে বসবাসকারীরা জানিয়েছেন, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তারা।
বিউটি বেগম বলেন, মোক সরকার ঘর দিলো, কিন্তু এটা কেঙ্কা ঘর? এনা বাতাসোত মোর ঘরের চালা উড়ি গিয়া পুখুরোত পড়ল। ছোলপোল নিয়া আল্লাহকে ডাকিছুনু। মুই মনোত নিসো, মাঠোতে থাকিম তাও এঙ্কা ঘরোত যাম না আর। মুই মোর ছোলপোলকে হারাতে চাও না। এগলা মানসোক মারার জন্য করসে।’ আর্জিনা বেগম, মতিয়ার রহমান, জাকির হোসেনেরও ঘরের চাল উড়ে গেছে।
সুফলভোগী ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করা হয়েছে। পিলারে কোনো রড না থাকায় একটু বাতাসেই দুলছে ঘর। ঘরের অনেক স্থানেই ফাটল ধরেছে। এ ছাড়া এখানে নেই পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা। রাস্তা থেকে বহুদূরে জমির মাঝখানে এসব ঘর নির্মাণ করা হলেও চলাচলের মতো রাস্তাও নেই। এতে ভোগান্তিতে রয়েছেন এখানকার ১০০ পরিবার। সুফলভোগীরা শুরু থেকেই ভালোমানের কাজের দাবি জানিয়ে এলেও তা মানা হয়নি।
স্থানীয় সখিনা বেওয়া জানান, ভূমিহীন হওয়ায় জমিসহ পাকা ঘর উপহার পাওয়ার খবরে আনন্দের জোয়ার এসেছিল। কিন্তু সামান্য ঝড়েই ভেঙে গেছে তার বারান্দার পিলার। উড়ে গেছে স্বপ্নের লাল টিন।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো সরকারি খরচেই মেরামত করে দেওয়া হবে। যারা ঘরগুলো পেয়েছেন, তারা ঘরগুলোতে উঠছেন না। আমরা যে ছোট ছোট তালা লাগিয়ে দিয়েছি, তা তারা খুলে দরজা জানালা খোলা রাখেন। এ কারণে ঝড়ের সময় ঘরে বাতাস ঢুকে চাল উড়ে গেছে। মেরামত শুরু হয়েছে।