রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ দৌলতদিয়া ঘাটে ঈদে ঘরেফেরা মানুষের কিছুটা চাপ রয়েছে। দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকায় বিকল্প উপায়ে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ, মোটরসাইকেলসহ ছোট ছোট যানবাহনে চড়ে ঘাটে ভিড়ছেন তারা।
সরেজমিন সকাল ৯ টা-১১টা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় দেখা যায়, সবগুলো ফেরি চালু রয়েছে। দৌলতদিয়া থেকে ছেড়ে যাওয়া ফেরিগুলো অল্পসংখ্যক গাড়ি নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশ্য যাচ্ছে এবং পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলোতে সাধারণ যাত্রী ও ছোট গাড়ি, ট্রাক, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে ঠাসা। এ সময় লক্ষ করা যায় অনেকে ট্রাকের ছাদে, পিকআপে গাদাগাদি করে ঘাট পার হচ্ছেন।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রুহুল আমিন যাচ্ছেন ঝিনাইদহ। তিনি বলেন, ঈদে বাড়ি ফিরতে হবে। নাড়ির টানে পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য এত কষ্ট করে যাওয়া।
এ সময় তিনি আরও বলেন, যদি সরকার দূরপাল্লার বাসগুলো চালু করে দিত আমাদের এত সমস্যা পেরিয়ে বাড়ি যেতে হতো না।
সজিব আহমেদ নামের আরেকজন বলেন, বাড়ি যাচ্ছি করোনার ভয় নিয়েই এ ছাড়া উপায় নাই। ৩ দিনের ছুটি পেয়েছি। এরপরও বাড়ি যাচ্ছি শুধু মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করবো বলে। ঢাকায় তো আর আমার কেউ নেই যে তাদের সাথে ঈদ করবো তাই শত ঝুঁকি বাধাবিপত্তি নিয়ে বাড়ি যাওয়া।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) ফিরোজ শেখ বলেন, বর্তমানে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৪টি ফেরি চালু রেখেছি। আমাদের তিনটি ঘাট সচল রয়েছে। গতকাল ঝড়ে কারণে ৫নং ঘাটের পন্টুন ছিঁড়ে গেলেও তা ঠিক করে সচল করা হয়েছে।
পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলোতে ঈদের শেষ মুহূর্তের চাপ রয়েছে বলে তিনি জানান।