করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়েই ঈদের ছুটিতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্রে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন দর্শনার্থীরা। তবে করোনার সংক্রমণ রোধে প্রধান প্রধান বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় আশপাশের গুলোর ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। গত শুক্রবার ঈদের দিন থেকে শুরু করে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত সোনারগাঁয়ের কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ও বিনোদন কেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্যটকদের প্রবেশ ও ঘোরাঘুরি নিষেধ থাকলেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাধবপুর চা-বাগান লেক ও চা-প্ল্যান্টেশন এলাকায় দর্শনার্থীরা ভিড় করেছেন। গত শুক্রবার ঈদের দিন বৃষ্টি ও করোনার স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। তবে আরেক বিনোদন কেন্দ্র লাউয়াছড়া উদ্যানে কড়া নিরাপত্তা থাকায় পর্যটকরা প্রবেশ করতে পারেননি।
সোনারগাঁয়ের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র সোনারগাঁ জাদুঘরে প্রবেশ করতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন অনেক দর্শনার্থী। তবে সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক পানাম নগরীতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ঈদের দিন এবং ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে দর্শনার্থীর ব্যাপক চাপের মুখে বাধ্য হয়ে পানাম নগরী খুলে দেওয়া হয়। এতে হাজার হাজার দর্শনার্থী স্বাস্থ্যবিধি লংঘন করে সেখানে ঘুরে বেড়িয়েছেন। সোনারগাঁয়ের পানাম নগরীর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা দবির হোসেন জানান, পানাম নগরীর চারপাশ খোলা হওয়ায় নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দর্শনার্থীরা ঢুকে পড়েন। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লোকজনকেও ঢুকতে দিতে হয়েছে।
এদিকে মাধবপুর লেক এলাকায় ঈদের দিন দুপুরের পর থেকে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে আসা পর্যটকরা অবাধে দল বেঁধে ঘোরাঘুরি করেছেন। এ ক্ষেত্রে কোনো স্বাস্থ্যবিধি ও বাধা মানেননি তারা। একই অবস্থা ছিল দলই চা-বাগানে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ এলাকা, শমসেরনগর চা-বাগানের লেক, চা-বাগান গল্ফ মাঠ, ফুলবাড়ি চা-বাগানসহ বিভিন্ন চা-বাগানের পাহাড়ি উঁচু নিচু প্ল্যান্টেশন এলাকায়ও।
গত শুক্রবার ঈদের দিন বিকেলে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রবেশ করতে না পেরে কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের পাহাড়ি এলাকায় ঘোরাঘুরি করে ছবি তুলছেন। মাধবপুর লেকের প্রধান ফটকের গেটম্যান লক্ষ্মী নারায়ণ বলেন, ‘ঈদের সময়ে লেকে প্রবেশ নিষেধ বলে আগত পর্যটকদের প্রবেশে বাধা দিয়ে তিনি একা তাদের আটকাতে পারেননি।