ভোগান্তিকে সঙ্গী করে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ

ভোগান্তি সঙ্গী করেই কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছে কর্মজীবীরা। রবিবার সরকারিভাবে ঈদের ছুটি শেষ হয়। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সোমবার সারাদিন ভেঙে ভেঙে বিভিন্ন মাধ্যমে রাজধানীতে আসতে শুরু করেন যাত্রীরা। 

সোমবার সকাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা ও বাইপাইল, আব্দুল্লাহপুর সড়ক ধরে রাজধানীতে ফিরতে দেখা যায় উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষদের। সকালে আশুলিয়ার বাইপাইল ত্রীমোড় ও নবীনগর ত্রীমোড়ে যানবাহন কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ও যানবাহনের ভিড় বাড়তে থাকে। 

দুপুরেও দেখা গেছে বাড়ি ফিরে যাওয়া মানুষগুলো দূরপাল্লা ও ছোটো ছোটো পরিবহনে ঢাকা ফিরছেন। হাতে, মাথায় ও কাঁধে ব্যাগ বা বস্তা নিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা গেছে তাদের। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে কর্মমুখী মানুষের চাপ। 

জানা গেছে, পোশাক কারখানায় বেঁধে দেওয়া সরকার নির্ধারিত ছুটি ছিল তিন দিন। তবে অনেক কারখানা ছয় দিন বা এক সপ্তাহও ছুটি দিয়েছে। তাই পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ভিড় ছিল কম। 

ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্রা ও ইজিবাইক) ও মোটরসাইকেলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজধানীতে ফিরতে দেখা গেছে যাত্রীদের। এসব যানবাহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে তাদের।  

চাকরিজীবী শরিফুল ইসলাম বলেন, সকাল ৬টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়েছি। প্রথমে রিকশা, তারপর সিএনজি এরপর দুইটা বাসে আসতে হয়েছে। দুর্ভোগ তো হয়েছেই। তবে সামনে যখন পোশাক শ্রমিকরা আসতে শুরু করবে তখন আরো সমস্যা হবে। সরকারের উচিত কর্মজীবী মানুষদের বাড়ি থেকে ফেরার জন্য দূরপাল্লার বাস ছেড়ে দেওয়া। 

তৈরি পোশাকশ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, গণপরিবহন চালু থাকলে আমরা অনেক কম ভাড়া দিয়ে ঢাকায় ফিরতে পারতাম। তারপরও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই মোটরসাইকেল, থ্রি হুইলার ও ব্যটারিচালিত অটোবাইকে করে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে কর্মজীবী মানুষেরা।

পরিবার নিয়ে আশুলিয়ায় ফিরেছেন কর্মজীবী নারী আলেয়া আক্তার। তিনি বলেন, আমার ছুটি আরো তিন দিন রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতি কী হয় বলা যায় না। তাই আগে ভাগেই চলে আসলাম।

জানতে চাইলে সাভার ট্রাফিক পুলিশের টিআই আব্দুস সালাম বলেন, সড়কের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত ভালো। এখন পর্যন্ত অল্পসংখ্যক মানুষ ফিরতে দেখা গেছে। তবে আমিনবাজার এলাকায় একটু যানবাহনের চাপ বেশি। কারণ সেখানে গাড়ি গুলো ইউটার্ন নিচ্ছে। 

ঢাকাগামী যাত্রীদের যেমন চাপ রয়েছে তেমনি ঘরে ফেরা মানুষেরও চাপ রয়েছে বলে জানান তিনি।