ব্রিফিংয়ে কাদের

বিদেশে সরকারের কোনো প্রভু নেই আছে অকৃত্রিম বন্ধু

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিদেশে সরকারের কোনো ‘প্রভু’ নেই, আছে অকৃত্রিম বন্ধু। তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে তার কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন।’ গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘করোনা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত পদক্ষেপ জাতিসংঘ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, দ্য ইকোনমিস্ট, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ম্যাগাজিন ফোর্বসসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। অথচ বিএনপি নামক দলটি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা না করে বরং অবিরাম মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে এবং দলগতভাবে আওয়ামী লীগও জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। জনগণের সমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনা সরকার দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা গতিশীল করে এগিয়ে যাচ্ছে সম্মুখপানে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার পরিচালনায় হাওয়া ভবনের মতো কোনো বিকল্প ক্ষমতা কেন্দ্রের অস্তিত্ব নেই। জনগণের সরকার জনগণের কল্যাণেই কাজ করছে।’

করোনা সুরক্ষায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে বিএনপি জনগণকে সচেতন না করে উল্টো ঢালাওভাবে সরকারকে দুষছে বলে অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘করোনা মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনাই যদি থাকত তাহলে সংক্রমণের সংখ্যা ৮ হাজার থেকে ৬শ’-এর নিচে এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১১২ জন থেকে ৪০-এর নিচে নেমে এলো কী করে?’

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘করোনা খুব তাড়াতাড়ি চলে যাবেÑএটা ভাবার কোনো কারণ নেই।’

বিএনপি মহাসচিবের ‘লকডাউনে’র আগে ‘কঠোর লকডাউন’ দেওয়ার দাবি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকার যখন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউন বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করল, তখন তারা কৌশলে এর বিরোধিতা করল।’ বিএনপি ভ্যাকসিনের বিরোধিতা করে জনগণকে ভ্যাকসিন গ্রহণ থেকে দূরে রাখতে যে অপপ্রচার চালিয়েছিল তাও ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব এখন শাটডাউন, ক্র্যাকডাউন নানান পরিভাষা ব্যবহার করছেন অথচ যখন মানুষের জীবন-জীবিকার সুরক্ষাই অগ্রাধিকার, সেখানে তারা অব্যাহতভাবে অপরাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছেন।’