কালোটাকা থাকলেই সাদা করার সুযোগ

আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে। চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী বাজেটেও এ সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, যত দিন পর্যন্ত অপ্রদর্শিত টাকা প্রদর্শিত না হবে, তত দিন প্রদর্শিত করার সুযোগ রাখা হবে। তবে বিষয়টি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, এ ঘোষণা হলো দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। অর্থনীতিতে এই পদক্ষেপ কোনোভাবেই সুফল বয়ে আনতে পারে না। আর ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এটা কাম্য নয়, এতে করব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে।

গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয়ক ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে নতুন অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ থাকছে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অপ্রদর্শিত টাকা কীভাবে হয়? এবারও সেটি কন্টিনিউ করব।’

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় ব্যাংক আমানতে, নগদ টাকা, ফ্ল্যাট কেনাসহ সব ক্ষেত্রে বিনা প্রশ্নে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগেও এ সুযোগ রয়েছে। এই সুযোগ ৩০ জুন শেষ হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটেও কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখার বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা নির্ঘাত দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো। কোনোভাবেই অর্থনীতিতে এই পদক্ষেপ সুফল হয়ে আনতে পারে না।’

অনন্তকাল ধরে এমন সুবিধা রাখার ঘোষণা অর্থমন্ত্রী কীভাবে করতে পারেন, এমন প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই অর্থনীতিবিদ। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘সৎপথে যারা কর দেন, তারা কী অপরাধ করেছেন? তারা কেন বেশি কর দেবেন। ২৫-৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। আর অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ নিলে কর কম, সুবিধা বেশি। এক বছরের কর পরের বছর দিলেই ব্যাপক ছাড়। এটা হতে পারে না।’

এ প্রসঙ্গে বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আয়করে একটি দ্বৈত করব্যবস্থা চালু করা হলো।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আসছে বাজেটে বরাদ্দের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কভিড-১৯ মোকাবিলায় টিকাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল থাকছে; যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বরাদ্দের অতিরিক্ত। চলতি অর্থবছরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যে বরাদ্দ তারা জানিয়েছেন, নতুন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি খাতে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। করোনাকালে নিম্ন আয়ের মানুষ জীবিকা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে আছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কর্মহীনের সংখ্যা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আকার বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে অনেক মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে হচ্ছে। এ কারণে সরকার এ বছর খাদ্যকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করছে বাজেট। ফলে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের চেয়ে ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ পাচ্ছে খাদ্য খাত। সব মিলিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয় পাচ্ছে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ।

আগামী ৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সরকারের এই মেয়াদে তৃতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৭ শতাংশ।