সামুদ্রিক মাছের বাধাহীন প্রজনন ও সংরক্ষণে সারা দেশে সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা একটানা ৬৫ দিন চলবে। বছরজুড়ে সামুদ্রিক মাছের আকালের মধ্যে দুই মাসের এ নিষেধাজ্ঞায় দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরের মৎস্য আড়তগুলোয় ‘হতাশা’ বিরাজ করছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জীবিকা নির্বাহের বিকল্প উপায় না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় বলে জানিয়েছেন সেখানকার মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেরা। পাশাপাশি বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ ও দেশটির সঙ্গে মিল রেখে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
মৎস্য বিভাগ জানায়, মেরিন ফিশারিজ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ২০ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। ২০১৫ সালে এ নিষেধাজ্ঞা চালু হয়। শুরুতে এ নিষেধাজ্ঞা শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের জন্য প্রযোজ্য ছিল। পরে ২০১৯ সাল থেকে সব ধরনের নৌযান এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়।
একাধিক জেলে ও ব্যবসায়ী জানান, ৬৫ দিনের এই নিষেধাজ্ঞা ছাড়াও মা ইলিশ প্রজননের জন্য অক্টোবরে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয়। আবার জাটকা সংরক্ষণে নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত ৭ মাস সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এর ফলে ইলিশের মৌসুমের শুরুতে ৮৭ দিনসহ বছরের বেশিরভাগ সময়ই মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হচ্ছে জেলেদের। চলতি বছর ইলিশের আকাল আর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
ভারতীয় জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে মহিপুরের শাহজালাল মাঝি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দরিদ্রতার জন্য জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ শিকার করতে যাই। এভাবে বছরজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলে পরিবারের ভরণ-পোষণ চালাব কী করে।’
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে খাদ্য সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলে ইউসুফ বেপারী। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৬৫ দিনের জন্য মাত্র ৫৬ কেজি চাল দেওয়া হয়। ৭-৮ জনের পরিবার এ দিয়ে কীভাবে দুই মাস চলে? অন্য কোনো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করব করোনার জন্য সেটাও বন্ধ।’
মহিপুর ট্রলার মালিক ও মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি ফজলু গাজী বলেন, ‘দক্ষিণের এ মৎস্য বন্দরে প্রায় লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে। মৎস্য ভিত্তিক অর্থনীতি সুরক্ষায় জেলেদের পেশা পরিবর্তন রোধে খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধিসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান এখন সময়ের দাবি।’
আলীপুর ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘শুরু থেকেই ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ী ও জেলেরা। ভারতে এই নিষেধাজ্ঞা ৪৫ দিনের। শুরু হয় ১৫ এপ্রিল থেকে। তাই ভারতের সঙ্গে মিল রেখে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলে তা বেশি কার্যকর হবে।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের এসব দাবি-দাওয়া ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’