রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় জেলা পর্যায়ে সরকারি আইন কর্মকর্তাদের মাসিক রিটেইনার ফি চার থেকে পাঁচগুণ বাড়িয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে মামলা শুনানির জন্য দৈনিক ও ভ্যালুয়েশন ফি।
গতকাল বৃহস্পতিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি আইন কর্মকর্তাদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও দায়বদ্ধ করে তোলার জন্য এসব ফি বাড়ানো হয়েছে।’ রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য জেলায় গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি), পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), বিশেষ পিপি, অতিরিক্ত জিপি, অতিরিক্ত পিপি, এজিপি, এপিপি ও লোকাল গভর্নমেন্ট প্লিডার (এলজিপি) নিয়োজিত থাকেন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জিপি, পিপি ও বিশেষ পিপির মাসিক রিটেইনার ফি বিভাগীয় শহরে ১৫ হাজার ও জেলা শহরে ১২ হাজার টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। আগে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার ও জেলা শহরে এ ফি ছিল দেড় হাজার টাকা। জিপিদের মামলাপ্রতি মাসিক ভ্যালুয়েশন ফি ৩ হাজার থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য পূর্ণ দিবসে পিপি ও বিশেষ পিপি ৬০০ এবং অর্ধদিবসে পাবেন ৩০০ টাকা। আগে এ ফি ছিল যথাক্রমে ৫০০ ও ২৫০ টাকা।
অতিরিক্ত জিপি ও অতিরিক্ত পিপির মাসিক রিটেইনার ফি বিভাগীয় শহরে ১২ হাজার ও জেলা শহরে ৯ হাজার টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। আগে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার ও জেলা শহরে এ ফি ছিল দেড় হাজার টাকা। অতিরিক্ত জিপিদের মামলাপ্রতি মাসিক ভ্যালুয়েশন ফি ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য পূর্ণ দিবসে অতিরিক্ত পিপি ৫০০ ও অর্ধদিবসে ৩০০ টাকা পাবেন। আগে এটি ছিল যথাক্রমে ৪০০ ও ২৫০ টাকা।
এজিপি, এপিপি ও এলজিপিদের মাসিক রিটেইনার ফি বিভাগীয় শহরে ৬ হাজার ও জেলা শহরে ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এজিপি ও এলজিপিরা মাসিক ৭৫০ টাকা পেতেন। তবে এপিপিরা কোনো রিটেইনার ফি পেতেন না। নতুন সিদ্ধান্তে এজিপি ও এলজিপিদের মামলাপ্রতি মাসিক ভ্যালুয়েশন ফি ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। মামলার শুনানির জন্য এপিপিরা পূর্ণ দিবসে ২৫০ ও অর্ধদিবসে ১৫০ টাকা পাবেন। আগে এটি ছিল যথাক্রমে ২০০ ও ১০০ টাকা।
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ারের বরাত দিয়ে রেজাউল করিম জানান, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনায় আইন কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও দায়বদ্ধ করে তোলার পাশাপাশি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন। এরই অংশ হিসেবে মাসিক রিটেইনারসহ অন্যান্য ফি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দেন। পরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা পাঠানো হলে কয়েক দফা আলোচনার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ও সম্মতি দেয়। আগামীতে এসব ফি আরও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।