এক যুগ পর ফিরলেন ‘গুম হওয়া’ রুবেল

নারায়ণগঞ্জে ‘গুম হ্ওয়ার’ (অপহরণের পর হত্যা) ১৩ বছর পর ফিরে এসেছেন রুবেল ওরফে আল আমিন (২১) নামে এক যুবক।

সদর থানার আলীরটেকের কুড়েরপাড় এলাকার সেই যুবককে গুম করা হয়েছে অভিযোগে দুইজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ১৯ জনকে আসামি করে ২০০৭ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করে তার মা রহিমা খাতুন। মামলায় ৬ থেকে ৭ জন আসামি জেল খেটে বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

বুধবার রাতে রুবেল বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার আসামিরা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসে।

রুবেল জানান, ২০০৭ সালের ঐ সময়ে তিনি তার মা রহিমা খাতুনের মারধর ও ক্ষুধার যন্ত্রনায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনালে আসেন। পরে নারায়ণগঞ্জ রেল স্টেশন থেকে ট্রেনযোগে কমলাপুর যান। সেখানে দীর্ঘদিন মানুষের কাছে হাত পেতে খেয়ে বেঁচেছিলেন। এরপর এক লোকের সাথে পরিচয় হওয়ার পর ওই লোক রামপুরা একটি হোটেলে কাজ নিয়ে দেন তাকে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

‘বর্তমানে মগবাজার মধুবাগ হাতিরঝিল সংলগ্ন মসজিদের পাশে ভাড়া বাসায় থেকে সেখানেই রং মিস্ত্রির কাজ করছি। আসল নাম রুবেল হলেও মগবাজারে রং মিস্ত্রি আল আমিন নামে পরিচিত।’

রুবেল আরও জানান, বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কয়েক বছর পর তার সঙ্গে তার মায়ের যোগাযোগ হয়। পরে তিনি কুঁড়েরপাড় আসতে চাইলে তার মা বলেন- তোকে এলাকায় নিয়ে গেলে মেরে ফেলবে। গত ৬ বছর ধরে তিনি এলাকায় আসতে চাইলেও তার মা তাকে আসতে দেননি বলে জানান রুবেল।

একপর্যায়ে তার মাকে না জানিয়েই বুধবার রাতে কুঁড়েরপাড় নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। তখন তার মা বলে তুই কেন আসছোস, তোকে তো মেরে ফেলবে। বৃহস্পতিবার মামলার আসামিরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে আটক করে। তখন মামলার বাদী রহিমা খাতুন কৌশলে পালিয়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজামান জানান, রুবেলের বাবার নাম জানু মিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার বাদী রহিমা খাতুন এলাকায় মামলাবাজ মহিলা হিসেবে পরিচিত। তিনি মিথ্যা মামলা থেকে তার আত্মীয়-স্বজনকেও ছাড় দেননি। মিথ্যা মামলা করে টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিল তার মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

রুবেল পুলিশকে জানিয়েছেন, তার মা সুবিধাজনক না। সে অন্য লোকের প্ররোচনায় মামলা করেছেন। তাকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কেন এবং কি কারণে কার প্ররোচনায় তিনি মামলা করেছেন।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম জানান, মামলাটি বেশ কয়েক বছরের পুরনো। পুলিশ ও ডিবি এর আগে তদন্ত করেছিল। শুক্রবার ভিকটিমকে আমরা আদালতের জিম্মায় দিবো এবং আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।