দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় হামলা-পাল্টাহামলার পর ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। উভয় পক্ষই এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করছে। কিন্তু ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনের সাধারণ মানুষের জীবনের যে সংকট তৈরি হয়েছে তা নিয়ে কোনো পক্ষই কথা বলছে না। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইসরায়েলের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবে। কিন্তু এই ক্ষতিপূরণ কিংবা যুদ্ধবিরতি কি ফিলিস্তিনের সাধারণ জনগণের ভাগ্যে কোনো পরিবর্তন আনবে!
উভয় পক্ষের সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনের শিশুরা। ফিলিস্তিনে প্রজন্মের পর প্রজন্ম আধিপত্যবাদী সম্প্রসারণবাদ ও সহিংসতার মধ্যে বেড়ে উঠছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘর্ষ অগ্রহণযোগ্য। এই লড়াই অবিলম্বে থামা উচিত। গত বৃহস্পতিবার জতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি। সে সময় গুতেরেস বলেন, ‘গাজায় ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে গভীরভাবে ব্যথিত। ৬০ শিশুসহ অন্তত ২০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।’ যদিও গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬৫ শিশুসহ নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ২৩০।
ফিলিস্তিনের শিশুদের অবস্থা প্রকাশ করতে গিয়ে জাতিসংঘ প্রধান বলেন, ‘পৃথিবীতে যদি কোনো নরক থাকে, তাহলে সেটি হলো গাজার শিশুদের জীবন।’ নাইজার ও আলজেরিয়ার অনুরোধে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নাইজার বর্তমানে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ও আলজেরিয়া জাতিসংঘে আরব গ্রুপের চেয়ারের দায়িত্বে রয়েছে। ১৯৬৭ সালের সীমান্ত অনুসারে দুই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা পুনরায় শুরু করা চলমান সংকট ও আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক বলেও উল্লেখ করেন জাতিসংঘ প্রধান।
গত বুধবার চলমান সংঘর্ষের দশম দিনে মহাসচিবের এক মুখপাত্র জানান, তিনি ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে এখনো ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি। গুতেরেস গাজায় সংবাদমাধ্যমের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়াকে চরম উদ্বেগের বলে অভিহিত করেছেন।