বাগেরহাটে ঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুত ৩৪৪টি আশ্রয় কেন্দ্র

আবহাওয়া অফিস ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়ায় তা মোকাবিলা করতে উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

ঝড়ের আগে যাতে উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে সে জন্য জেলার ৩৪৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হচ্ছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি রেডক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে যাতে স্থানীয় লোকজন থাকতে পারে সে জন্য জেলার ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলো খুলে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি রাখতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাটের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এক ভার্চুয়াল সভা করেছে।

সভায় বাগেরহাটের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত শুকনা খাবার চিড়া মুড়ি গুড় মজুত রাখা। ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে যাতে দুর্গত এলাকার মানুষ নিরাপদে পৌঁছতে পারে সে জন্য রেডক্রিসেন্ট ও ফায়ার সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে দল গঠন করা। দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ ও খাদ্য শস্য বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাট ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আহাদ উদ্দিন হায়দার বলেন, এক বছর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পান করোনাভাইরাসের মহামারি মধ্যে আঘাত হেনেছিল। আসন্ন ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো দুর্গত এলাকার মানুষদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা। গুরুত্বের সঙ্গে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে পারলে ঝড় মোকাবিলা করা অনেকটাই সহজ হবে বলে মনে করেন তিনি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক এই প্রতিবেদককে বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে ঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে যেসব ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সাধারণ মানুষ আশ্রয় নিতে আসবেন তাদের অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।

এসব আশ্রয় কেন্দ্রে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক রাখতে বলা হয়েছে। সভায় বাগেরহাটের ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত শুকনা খাবার চিড়া মুড়ি গুড় মজুত রাখা।

ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে যাতে দুর্গত এলাকার মানুষ নিরাপদে পৌঁছতে পারে সে জন্য রেডক্রিসেন্ট ও ফায়ার সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে দল গঠন করা। দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ ও খাদ্য শস্য বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বাগেরহাট জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, বাগেরহাট জেলায় ৩৪৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এর পাশাপাশি স্কুল কলেজগুলোও খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে এক কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং ২৮ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য মজুত রয়েছে।

এ ছাড়া তিনটি পৌরসভার জন্য ছয় লাখ টাকা মজুত আছে। ঘূর্ণিঝড়কালীন ও ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের দ্রুত সহায়তা করা যায় সে জন্য জেলা প্রশাসন তৎপর থাকবে।

বর্তমানে করোনার দুর্যোগ চলমান রয়েছে এই দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মানুষের স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে।