নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় সালেহা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার রাত ১টার দিকে উপজেলার পিরোলী ইউনিয়নের জামরিলডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
তিন বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত সালেহা বেগম গ্রামের নূর মোহাম্মদ খন্দকারের স্ত্রী ও ইরুপ খন্দকারের মা। বসতঘরের বারান্দায় পাটকাঠির বেড়া দেওয়া একটি কক্ষে পুড়ে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জামরিলডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইরুপ খন্দকার ও আকছির মোল্লার মধ্যে বিরোধ রয়েছে। এরই জের ধরে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন সালেহা বেগমের এক ছেলে আরিফ খন্দকারকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করে।
ইরুপ খন্দকারের অভিযোগ, আরিফের খুনিরা আমার ঘুমন্ত মাকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আর আরিফের স্ত্রী কুলসুম বেগমের দাবি, ‘আমার স্বামী হত্যার আসামিরা সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। তারাই আমার শাশুড়িকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আমি খুনিদের বিচার চাই।’
তবে এ বিষয়ে আকছির মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার পক্ষের একজন বলেছেন, তাদের ফাঁসাতে নিজেরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, সহকারী পুলিশ সুপার (কালিয়া সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হুদা ও কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কনি মিয়া।
পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, ‘বৃদ্ধা সালেহা বেগমকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিষয়টি স্পর্শকাতর। কী কারণে, কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্ত ও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আগেও এ এলাকায় অনেকগুলো মামলা রয়েছে। তদন্তে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’
কালিয়া থানার ওসি শেখ কনি মিয়া জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন দেওয়া হয়েছে। সুরতহালের পর ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।