দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ছে। চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ কমতে কমতে ৬ শতাংশে নামার পর এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা আবার বেড়ে ৯ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ হারে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত ৯ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত ১৪ মে ঈদের দিন এরচেয়ে বেশি হারে রোগী শনাক্ত হয়েছিল। তার আগে গত মার্চের প্রথম থেকেই দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়। টানা প্রায় ৪০ দিন ধরে সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে বাড়তে শনাক্ত হার ২৩ শতাংশের ওপরে ওঠে। যেখানে গত ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে শনাক্ত হার ছিল গড়ে ৩ শতাংশের কম। সেই শনাক্ত হার এপ্রিলের ৯ তারিখে সর্বোচ্চ ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশে ওঠে। ১০ এপ্রিল থেকে সংক্রমণ হার আবার কমতে শুরু করে। ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে গত ১৫ মে অর্থাৎ ঈদের পরদিন তা প্রথমবার ৭ শতাংশের নিচে নামে। এরপর টানা তিন দিন শনাক্ত হার সাতের নিচেই ছিল। কিন্তু পরের তিন দিন আবার শনাক্ত হার বেড়ে ৭ শতাংশের ওপরে ওঠে। তার পরের তিন দিন তা আরও বেড়ে ৮ শতাংশের ওপরে ওঠে। এমনকি গতকাল তা ৯ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষায় ১ হাজার ৩৫৪ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা এবং শনাক্ত দুটাই আগের দিনের চেয়ে বেশি। তবে এদিন মৃত্যু আগের দিনের চেয়ে কম হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২৮ জন করোনা রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন, যা আগের দিনের চেয়ে ১০ জন কম। এদিন মৃতদের মধ্যে ২৪ জনই পঞ্চাশোর্ধ্ব এবং ১০ জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। গত এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যু বাড়া-কমার মধ্যে রয়েছে।
গত বছর ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের পর গতকাল ছিল ৪৪১তম দিন। অধিদপ্তরের এদিনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে ৪৮৬টি পরীক্ষাগারে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪২টি জিন-এক্সপার্ট, ৩১৫টি র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও ১২৯টি আরটি-পিসিআর পরীক্ষাগার। এসব পরীক্ষাগারে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৮টা থেকে রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৫ হাজার ১৮২ জনের। আগের কিছু নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ২০৫ জনের, যার মধ্যে ৪৬২টি নমুনা ছিল বিদেশ গমনেচ্ছুদের। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত ৫৮ লাখ ২০ হাজার ৬১২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এসব পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৮০ জন। মোট পরীক্ষার বিপরীতে গড়ে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ লোকের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ১২ হাজার ৩৭৬ জন। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৮৯৯ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছে ৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৭ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৭ ও সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৬০ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২০ ও নারী ৮ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯৪৮ পুরুষ ও ৩ হাজার ৪২৮ নারী মৃত্যুবরণ করেছেন। শতকরা হিসাবে পুরুষ ৭২ দশমিক ৩০ ও নারী ২৭ দশমিক ৭০ ভাগ। এদিন সর্বোচ্চ ১০ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। বাকিদের মধ্যে চট্টগ্রামে ৭, সিলেটে ৫, বরিশালে ৩, রংপুরে ২ এবং ময়মনসিংহে ১ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১১৩ জন মারা গেছেন ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২ হাজার ৩৩৪, খুলনায় ৭৫২, রাজশাহীতে ৬৫৩, রংপুরে ৪৫১, সিলেটে ৪৪৪, বরিশালে ৩৭৪ এবং ময়মনসিংহে সর্বনি¤œ ২৫৫ জন মারা গেছেন। বয়স অনুযায়ী সর্বশেষ মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ১৪, ৫১-৬০ বছরের ১০, ৪১-৫০ বছরের ৩ এবং ৩১-৪০ বছরের ছিলেন ১ জন। এদিন ২৭ জন হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা গেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩৮৪ রোগীকে আইসোলেশনে ও ৭৮২ জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আইসোলেশনে ১৭ হাজার ৮২৯ এবং কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৩ হাজার ৭৯ জন। সারা দেশে কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোয় ১১ হাজার ৯৭০টি সাধারণ বেডের মধ্যে গতকাল রোগী ভর্তি ছিল ২ হাজার ৫টিতে। বাকিগুলো খালি ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ১৫৬টি আইসিইউর মধ্যে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ৩০০টিতে।