বাগেরহাটে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা

উপকূলীয় বাগেরহাটে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে প্রধান নদনদীগুলোতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাভাবিক জোয়ারে চেয়ে ২ থেকে ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আসা জোয়ারে জেলার প্রধান ভৈরব, পশুর, বলেশ্বর, পানগুছি ও মোংলা নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের পানির চাপ অনেক বেশি রয়েছে।

এতে উপকূলের বাঁধ উপচে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাভাবিক জোয়ারের পানি বাঁধ উপচে ভেতরে আসলে জেলার মোংলা, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও রামপাল উপজেলার মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য বিভাগ।

উপকূলের ঘের মালিকদের মাছ রক্ষা করতে নেটজাল দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

ঝড়ের পূর্বাভাসের পর নদী সাগরে মাছ ধরার শত শত ট্রলারে কূলে ফিরে বাগেরহাটের কেবি মাছ বাজারঘাটে অবস্থান নিয়েছে। ঝড় শুরুর আগেই উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষ যাতে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেয় সে জন্য জেলার ৩৪৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে প্রশাসন।

উপকূলবাসীকে সচেতন করতে মাইকিং করা হচ্ছে। কয়েকশ স্বেচ্ছাসেবক সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। আশ্রয় কেন্দ্রে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরও) খাদিজা আক্তার।

জেলে লিটন হাওলাদার ও সেলিম শেখ বলেন, ঝড়ের খবর পেয়ে নদী থেকে আমরা নিরাপদে ট্রলার নিয়ে ঘাটে ফিরে এসেছি। নদীতে প্রচণ্ড পানির চাপ। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দিন পূর্ণিমা তিথি। পূর্ণিমা তিথিতে নদনদীতে আরও পানি বাড়বে বলে তারা জানান।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাটের প্রধান প্রধান নদনদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ২/৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ণিমা তিথি আগামীকাল বুধবার। তাই আগামী দিন নদ নদীতে পানি আরও বাড়বে। বাগেরহাট জেলায় কোস্টাল এলাকার যে পোল্ডারগুলোর আছে তার মধ্যে টেকসই বেড়িবাঁধ উপ প্রকল্পের আওতায় শরণখোলায় বাঁধ নির্মাণের কাজ শেষের পথে।

এই বাঁধ সিআইপি নামের প্রকল্পের অধীনে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। বাগেরহাটের অন্য যে তিনটি পোল্ডারের অধীনে যে বেড়িবাঁধ রয়েছে তা অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত।

তারপরেও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। জোয়ারের পানির চাপে কোথাও বাঁধ ভেঙে গেলে আমরা তা মেরামতের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এ এস এম রাসেল বলেন, উপকূলীয় বাগেরহাট জেলায় ৬৭ হাজারের অধিক চিংড়ি ও সাদা মাছের ঘের রয়েছে। বাগেরহাটের উপকূলীয় মোংলা, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও রামপাল উপজেলার মাছের ঘেরগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

তিনি বলেন, বাঁধ উপচে বা ভেঙে যদি পানি ভেতরে প্রবেশ করে তাহলে বিপুল পরিমাণ মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাতে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাই আমরা এই সব এলাকার মাছ চাষিদের ঘেরগুলোকে নেটজাল দিয়ে ঘিরতে পরামর্শ দিয়েছি।