শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় উদযাপন করা হলো নজরুলজয়ন্তী। গতকাল মঙ্গলবার ছিল দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী। এদিন কবির সমাধিতে ফুলের চাদর বিছিয়ে দিলেন ভক্ত ও অনুরাগীরা। করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ডিজিটাল মাধ্যমে এবার উদ্যাপন করা হয়
নজরুলজয়ন্তীর অনুষ্ঠান। তবে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক প্রদানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপাচার্য মোহাম্মদ আখতারুজ্জামানসহ অন্য শিক্ষকরা। উপস্থিত ছিলেন কবি পরিবারের সদস্যরাও।
আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় সঙ্গে ছিলেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, শাহজাহান খান প্রমুখ।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. বদরুল আরেফীন, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন, যুগ্ম সচিব অসীম কুমার দে, বাংলা একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
বিএনপির পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ। দলের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের পাশাপাশি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)।
অন্যদিকে কবির জন্মজয়ন্তীতে ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে ছায়ানট, শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদ, আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও নজরুল একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার, গায়ক ও অভিনেতা। তিনি বৈচিত্র্যময় অসংখ্য রাগ-রাগিণী সৃষ্টি করে বাংলা সংগীত জগৎকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনী জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে। তার কবিতা ও গান মানুষকে যুগে যুগে শোষণ ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির পথ দেখিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পরই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশে তার বসবাসের ব্যবস্থা করেন। ধানম-িতে কবির জন্য একটি বাড়ি প্রদান করেন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শোকাবহ ঘটনার এক বছর পর ১২ ভাদ্র ১৯৭৬ সালের শোকের মাসেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন নজরুল। কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
কুমিল্লায় ‘চেতনায় নজরুল’ ম্যুরালে শ্রদ্ধা : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী কুমিল্লায় নানান অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপন করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকালে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘চেতনায় নজরুল’ ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থাপিত ‘চেতনায় নজরুল’ ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান। শ্রদ্ধা জানায় কুমিল্লা নজরুল পরিষদ, নজরুল ইনস্টিটিউট, সাংস্কৃতিক সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠন। বিকেলে ভার্চুয়াল আলোচনা ও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হয় জন্মোৎসব।
ত্রিশালে ছিল না আয়োজন : ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা থাকায় কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি, তবে ঘরোয়াভাবে ত্রিশালের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।