ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীর পানি মঙ্গলবার দিনের তুলনায় রাতে আরও বাড়তে থাকায় স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ৩ থেকে ৬ ফুটের অধিক জলোচ্ছ্বাসে মোংলাসহ সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
এ জন্য মঙ্গলবার রাতে মোংলার পশুর নদীর পাড়ের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কানাইনগর, চিলা, সুন্দরতলা, কলাতলা ও জয়মনি এলাকার মানুষকে নিরাপদে থাকার জন্য এবং সতর্ক করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা চালায়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার রাজবংশী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান ওই সকল এলাকায় গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষকে নিরাপদে ও সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ সহযোগিতা এবং প্রচারণা চালান।
ঝুঁকিপূর্ণ ওই সকল এলাকার মানুষের জন্য সাইক্লোন শেল্টারগুলো খোলা রাখা হয়েছে। সেখানে আগতদেরকে কোভিড-১৯ সুরক্ষাসহ খাবার বিতরণেরও ব্যবস্থা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
তবে গভীর রাত পর্যন্ত আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে কোনো লোকজন আশ্রয় নেয়নি। কারণ আবহাওয়া এখনও খুব বেশি খারাপ হয়নি। মাঝে মাঝে হালকা-মাঝারি বৃষ্টি ও বাতাস বইছে। মোংলায় মোট ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মোংলা পোর্ট পৌরসভার পক্ষ থেকেও মাইকিং করে দফায় দফায় আবহাওয়ার সকর্ত বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইয়াস মোংলা বন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
এদিকে বাগেরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, ইয়াস যতই এগিয়ে আসছে ততই উপকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। এরই মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে। এটি আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানান তিনি।