হাটহাজারীতে অনাড়ম্বরভাবে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন

করোনা পরিস্থিতিতে অনাড়ম্বরভাবে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা তথা বৈশাখী পূর্ণিমা উদ্‌যাপন করা হয়েছে। 

বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বোধিজ্ঞান লাভ এবং  মহাপরিনির্বাণ লাভের ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা উদ্‌যাপনের জন্য বুধবার উপজেলার আটটি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামের তেরোটি বৌদ্ধ মন্দিরে দিনব্যাপী পৃথক পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

করোনা মহামারির কারণে বৌদ্ধ জাতির প্রধান এই ধর্মীয় উৎসব সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি মেনে উদ্‌যাপন করা হয়েছে।

অহিংসা পরম ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধের ঘটনাবহুল দিনটিকে জাতীয় সংঘ বৈশাখ ডে হিসেবে ঘোষণা করেছে। দিনটি সারা বিশ্বে এক যোগে উদ্‌যাপন করা হয়েছে। বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলার উদালিয়া শান্তি নিকেতন বিহার, মির্জাপুর শান্তিধাম বিহার, গৌতমাশ্রাম বিহার, বালুখালী জগৎ জ্যোতি বিহার, রুদ্রপুর ধর্মরত্ন বিহার, গুমানমর্দ্দন শান্তি বিহার, সর্বজনীন নালন্দা বিহার, ধর্মচক্র বিহার, মিরেরখীল চন্দ্রপুর বেনুবন বিহার, জোবরা সুগত বিহার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা, জোবরা গোবিন্দ ঠাকুর মন্দির, মধ্যম মার্দাশা সর্বজনীন শান্তি নিকেতন বিহারে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পৃথক পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় ।

ভোরে ত্রিপিটকের মঙ্গলবানী পাঠের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করা হয়। এরপর জাতীয়, ধর্মীয় ও শান্তির পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে বুদ্ধ পূজা আষ্ট ও পঞ্চশীল গ্রহণ, দুপুরে বুদ্ধ পূর্ণিমার তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা, প্রদীপ ও গিলানো প্রত্যয় পূজা করোনা মহামারি থেকে মুক্তি ও জীব জগতের শান্তি, দেশের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বৌদ্ধ জাতির প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে হাটহাজারী বৌদ্ধ কল্যাণ পরিষদের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ  সংবাদ পত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে দেশবাসীকে মৈত্রীপূর্ণ শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন।