ঢাকার ধামরাইয়ে প্রথমবার শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ‘সাধারণ ক্ষমা’ পাওয়া যুবক ফের ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। শিশু ধর্ষণের মামলায় পুলিশ অভিযুক্ত মোহাম্মদ মোমিনকে (১৮) আটক করেছে। মঙ্গলবার রাতে ধামরাইয়ের সোমভাগ ইউনিয়নের বাদিগাওয়াইল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, মোমিনকে ছাড়াতে স্থানীয় চেয়ারম্যান আজহার উদ্দিন বাদীকে চাপ প্রয়োগ করছেন। এ ছাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করায় বাদীকে মারধরসহ তার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তার মোমিন উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের বাদিগাওয়াইল এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীর শিশুর আত্মীয়।
শিশুর বাবা বলেন, এর আগেও তিন থেকে চার দিন আগে আমার শিশু কন্যার ওপর নির্যাতন চালায় মোমিন। তখন আমি ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু আবারও সে একই ঘটনা ঘটানোয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ঘটনায় পুলিশ মোমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে মোমিনের বাবা আমাকে মারধর করে। এসময় কে বা কারা আমার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিলে একটি ঘর পুড়ে যায়।
তিনি অভিযোগ করেন, কবির নামে এক ব্যক্তির আমাকে মোবাইল ফোনে বলে চেয়ারম্যান কথা বলবেন। আমি মোবাইল কানে ধরতেই চেয়ারম্যান আজহার আলী মোমিনকে থানা থেকে ফিরিয়ে আনতে বলেন। কিন্তু আমি রাজি না হলে তিনি আমাকে চাপ দিতে থাকেন। পরে একপর্যায়ে মোবাইলটি কবিরের হাতে দিয়ে দেই।
একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তকে ছাড়াতে বাদীকে চাপ প্রয়োগের বিষয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহার আলী বলেন, বাদী ও বিবাদীরা ভাই ভাই। কবিরের মোবাইলে বাদীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে কোনো চাপ প্রয়োগ করিনি, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি।
ধর্ষণের বিষয় আপনি সমাধান করতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে তারা ভাই ভাই হওয়ায় সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। যদিও সমাধানের এখতিয়ার আমার নাই।
ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, মারধর ও বাড়িতে আগুন ধরানোর অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে ধর্ষণের অভিযোগ পেয়ে মোমিন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।