রিটেইল জায়ান্ট হিসেবে একচেটিয়া ব্যবসা করে অ্যামাজন সুবিধা নিচ্ছে এ অভিযোগে বিশ্বের শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। গত মঙ্গলবার মামলাটি করেন কলাম্বিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল কার্ল র্যাকসিন।
মামলার নথিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন বিক্রির ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে অ্যামাজন। ফলে ভোক্তাদের উচ্চমূল্যে পণ্য কিনতে হয়। অ্যামাজনের প্রতিযোগিতাবিরোধী (অ্যান্টি কম্পিটিটিভ) ব্যবসায়িক নীতির কারণে তাদের প্ল্যাটফর্ম লাভবান হচ্ছে ও সুরক্ষিত থাকছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অ্যামাজনের কারণে অন্য ওয়েবসাইটের বিক্রেতারা ক্রেতাদের কম দামে পণ্য অফার করতে পারে না। এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহকরা।
কার্ল রেসাইনের বরাতে বিবিসি জানায়, অ্যামাজন লাভবান হচ্ছে, কারণ এটি পুরো অনলাইন ব্যবসায় দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। সে অন্য সবার চেয়ে লাভবান হচ্ছে। একচেটিয়া ব্যবসা করে যাচ্ছে অ্যামাজন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন অ্যামাজনের মুখপাত্র। তিনি বলেন, তার বিক্রেতারা পণ্যের নিজস্ব দাম নির্ধারণ করেন।
অ্যামাজন থেকে কম দামে পণ্য অফার করা হয়। এ নিয়ে কোম্পানিটি গর্বিত। অন্য স্টোরের মতো গ্রাহকদের কাছে আমাদের অফার হাইলাইট না করার অধিকার সংরক্ষণ করা হয়। অ্যামাজনকে অ্যান্টি কম্পিটিটিভ ব্যবসায় নীতি থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। কিন্তু এটি শুধু কলাম্বিয়া জেলায় বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এটাই প্রথম নয়। এর আগে অ্যামাজনের বিরুদ্ধে একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ এনেছিল ইউরোপিয়ান কমিশন (ইসি)। গত নভেম্বরে ইসি বাজার নিরীক্ষণের পর দেখে, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করে নিজস্ব পণ্য বিক্রি বাড়ানোর চেষ্টা করছে অ্যামাজন। এ জন্য ই-কমার্স জায়ান্ট ব্যবহার করেছে তৃতীয় পক্ষের তথ্য।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একচেটিয়া ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে ফেইসবুক, গুগলের বিরুদ্ধেও। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেওয়া লকডাউন চলাকালে ভোক্তারা প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এতে বিক্রি বাড়ে অ্যামাজনের। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) প্রতিষ্ঠানটি মুনাফা করেছে ৮১০ কোটি ডলার, যা ২০২০ সালের একই সময়ের চেয়ে তিন গুণ বেশি।