আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায় খুন হওয়া যুবকের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা সবাই একে অপরের বন্ধু ও বাড়িও একই জেলায় বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকৃত মরদেহটি পাবনা জেলার বেড়া থানার মঞ্জু মিয়ার ছেলে আল-আমিনের (২০)। তিনি গ্রেপ্তারকৃতদের বন্ধু ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- পাবনা জেলার সাথিয়া থানার ধুলাউড়ি গ্রামের মাহাতাব ব্যাপারীর ছেলে সোহেল (২২), একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আব্দুল আলীম (১৭) ও আব্দুল খালেকের ছেলে জিহাদ। তারা সবাই দিনমজুর হিসেবে বিভিন্ন কাজ করতেন।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফজর আলী জানান, নিহতের মোবাইলের অবস্থান শনাক্ত করে তদন্তকাজ শুরু করা হয়। মোবাইলের অবস্থান অনুযায়ী গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার একটি দোকানে মোবাইল বিক্রি করতে গেলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সবাই একে অপরের বন্ধু। এর মধ্যে সোহেল নিহত আল-আমীনের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নাম করে ৯০ হাজার টাকা ধার নেয়। পরে চাকরি ও টাকা কিছুই না দিয়ে তালবাহানা করতে থাকলে আল-আমীন টাকার জন্য বন্ধু সোহেলকে চাপ দেন এবং অপমান অপদস্থ করে। এ ঘটনায় তিনি অপমানিত হয়ে গ্রেপ্তারকৃত তিন বন্ধুকে নিয়ে আল-আমীনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
সেই অনুযায়ী তারা আশুলিয়ার কাঠগড়া পুকুরপাড় এলাকার শামসুন্নাহারের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। সেখানেই গত ২২ মে রাতে তিন বন্ধু মিলে আল-আমীনকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত রবিবার (২৩ মে) রাত ১টার দিকে আশুলিয়ার কাঠগড়ার পুকুরপাড়ের ওই বাড়ি থেকে আল-আমীনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেন সোহেল নামের ওই যুবক।
পরে ২৩ মে সকাল থেকে ঘরের দরজায় তালা ঝুলতে দেখেন বাড়িওয়ালা। রাতে ঘর থেকে পচা গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে রাত ১টার দিকে আশুলিয়া থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।