করোনাভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর অন্তত এক বছর দেহে এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা বজায় থাকে, সম্ভবত তা আমৃত্যুও হতে পারে। নতুন দুটি গবেষণার ফলাফলে এমন তথ্য এসেছে।
গবেষণা দুটিতে দেখা গেছে, করোনা থেকে সেরে ওঠার পরে এক ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন বেশিরভাগ মানুষেরই বুস্টার ডোজ নেওয়ার দরকার হবে না। টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে যারা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হননি,তাদের ক্ষেত্রে হয়তো দ্বিতীয় ডোজ নিতে হতে পারে।
গবেষণায় এটাও দেখা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরেও যাদের দেহে প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি, এমন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী আবারও সংক্রমিত হতে পারেন। উভয় গবেষণা প্রতিবেদনই ওইসব মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যারা এক বছর আগে করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছিলেন।
ভাইরাসটিকে চিনে নেওয়া কোষগুলো অস্থিমজ্জায় থাকে এবং যখন দরকার তখন অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করতে পারে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ন্যাচারে গত সোমবার প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্য গবেষণায় দেখা গেছে, দেহে প্রাথমিক সংক্রমণের পর ‘মেমোরি বি’ নামের কোষগুলো করোনার বিরুদ্ধে অন্তত ১২ মাস পর্যন্ত পরিপক্ব ও শক্তিশালী হতে থাকে।
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার ইমিউনোলজিস্ট স্কট হেনসলে বলেন, ‘করোনার সংক্রমণে অথবা টিকা নেওয়ার ফলে এর বিরুদ্ধে দেহে যে প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে ওঠে, তা দীর্ঘস্থায়ী হয় সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোর এমন ফলাফলের সঙ্গে এই গবেষণাগুলোর ফলাফলও সঙ্গতিপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘সম্ভবত করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে ওঠা নিয়ে যে ভীতি, তা দূর করতে এ গবেষণা সহায়ক হবে। তবে একটি আশঙ্কা রয়েছে করোনার বিরুদ্ধে মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িক হতে পারে, যেমনটি হয়ে থাকে সাধারণ সর্দি-জ্বরের ভাইরাসের ক্ষেত্রে। তবে ওইসব ভাইরাস কয়েক বছরের ব্যবধানে নিয়মিত বদলাতে থাকে।’
মানবদেহে কোষের স্মৃতির পরিপক্বতার ওপর পরিচালিত গবেষণা দলের প্রধান রকফেলার ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের ইমিউনোলজিস্ট মাইকেল নুজেনসাইগ বলেন, ‘করোনার সংক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় দেহে যে ‘মেমরি বি’ কোষ সৃষ্টি হয়, টিকার মাধ্যমে এগুলো আরও শক্তিশালী হয়, এমনকি ওই ভাইরাসের অন্যান্য ধরনের বিরুদ্ধেও সক্রিয় থাকে এবং দেহে বুস্টার ডোজের চাহিদা থাকে না।’ তিনি বলেন, ‘করোনায় সংক্রমিতদের মধ্যে টিকা গ্রহণকারীদের দেহে খুবই চমৎকার অ্যান্টিবডি সেট গড়ে উঠেছে। কারণ, তাদের অ্যান্টিবডিরও বিবর্তন হচ্ছে। আমি আশা করছি, এগুলো দীর্ঘ সময় থাকবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা করোনায় আক্রান্ত হননি, তারা আক্রান্তদের মতো প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন করতে পারবেন না। কারণ, একটি জীবন্ত ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা এবং একটি একক ভাইরাল প্রোটিনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা কখনো এক নয়। করোনায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবডির পরিপক্বতা অর্জনে ৬-১২ মাস সময় লাগতে পারে।