দেশের সীমান্তবর্তী উপজেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকহারে বেড়েই চলেছে। গত বুধবার রাতে নতুন করে ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৩ জন এবং তার আগের দিন ২১২টি নমুনা পরীক্ষায় ১৩১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ঘোষিত বিশেষ লকডাউনের তৃতীয় দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার শহরে কার্যকর অবস্থা দেখা গেলেও শহরতলিতে মানুষের বিচরণ ছিল স্বাভাবিকের কাছাকাছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জজুড়ে করোনা সংক্রমণের এ ঊর্ধ্বগতির মুখে লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, জেলাজুড়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ছেই। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাব থেকে নতুন করে করোনা শনাক্তদের বিষয়ে প্রতিবেদন আসে। ওই প্রতিবেদনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩৩ জনের দেহে চিহ্নিত হয়েছে করোনাভাইরাস। এর আগে গত মঙ্গলবার ২১২টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয় ১৩১ জন। শতকরা হিসাবে শনাক্তের হার ৬২ ভাগ। অথচ জাতীয়ভাবে ওইদিন শনাক্তের শতকরা হার ছিল ১০ ভাগের মতো।
করোনা শনাক্তের এ ঊর্ধ্বগতি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ঘোষিত লকডাউনের তৃতীয় দিনে গতকাল শহরের সব প্রধান প্রধান মার্কেট বন্ধ ছিল। যাত্রীবাহী যান চলাচল করেনি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-নওগাঁ সড়কপথ বন্ধ করে দেওয়ায় বড় কোনো যান চলেনি। তবে শহরে রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল করেছে আগের দুদিনের চেয়ে বেশি। শহরের কাঁচাবাজারগুলো খোলা থাকায় প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছিলেন।
এদিকে শহরে লকডাউন কার্যকর দেখা গেলেও শহরতলির চিত্র ছিল ভিন্ন। শহরের অদূরে মহানন্দা তীরের বারোঘরিয়া, শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি বাজার, শ্যামপুর বাজার, মনাকষা বাজার এবং নাচোলের সোনাইচ-িসহ অন্যান্য ইউনিয়ন সদরগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সে জায়গাগুলোতে লকডাউনের তেমন প্রভাব ছিল না। মানুষের বিচরণ ছিল স্বাভাবিকের মতোই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের প্রবেশদ্বার দ্বারিয়াপুর এলাকায় কয়েকজন পথচারীর সঙ্গে কথা হলে তারা করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্বীকার করলেও চাকরির দোহাই দিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথা জানান।
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ১২টি টিম দায়িত্ব পালন করছে। গত বুধবার জেলার পাঁচ উপজেলায় মোবাইল কোর্ট ১৭৪টি মামলায় ১ লাখ ১৮ হাজার ১৫০ টাকা অর্থদন্ড করেছে। একই সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ জেলার প্রবেশদ্বারসহ ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে কাজ করছে। পুলিশ বলছে, বিশেষ লকডাউনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে যানবাহন ও মানুষের চলাচল কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় তা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমানোর লক্ষ্যে ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউন আমরা বাস্তবায়ন করছি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এবং কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গাড়ি ছাড়া কোনো মুভমেন্ট করতে দেওয়া হচ্ছে না। মানুষের অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত নিয়ন্ত্রিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। জেলা শহরের বাইরেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে মানুষের অন-অথরাইজড মুভমেন্ট বন্ধ করতে আমরা কাজ করছি।’