‘নিষিদ্ধ উপকূলের’ ইলিশে প্রাণ ফিরেছে চাঁদপুর মাছ ঘাটে

ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। মাছের আমদানি কম থাকায় অনেকটাই প্রাণহীন ছিল দেশের অন্যতম বড় ইলিশের বাজার চাঁদপুরের বড় স্টেশন মাছ ঘাট।

তবে ‘নিষিদ্ধ সাগর উপকূলের’ ইলিশের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ বাজার। কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে।

গত ১ মার্চ থেকে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরছে জেলেরা। তবে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না বললেই চলে। তাই আড়তেও মাছের আমদানি অনেক কম। সেই জায়গাটা পূরণ করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র উপকূলে ধরা পড়া ইলিশ।

মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য গত ২০ মে থেকে ৬৫ দিনের জন্য দেশের সামুদ্রিক জলসীমানায় সকল ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।

তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনেক জেলে সাগর ও উপকূলে মাছ শিকার করছেন। সেই মাছ নদী পথে নৌকা ও ট্রলারে করে নিয়ে আসা হচ্ছে চাঁদপুরের মাছঘাটে। আর সেই ইলিশে কিছুটা হলেও প্রাণ ফিরেছে বড়স্টেশন মাছঘাটে।

বড়স্টেশন মাছঘাটের মাছ ব্যবসায়ীরা জানায়, বর্তমানে ঘাটে স্থানীয় পদ্মা-মেঘনার ইলিশ আমদানি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মণ যা দিয়ে কোনো অবস্থাতেই ক্রেতাদের চাহিদা মিটছে না।

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সমুদ্র উপকূল থেকে চাঁদপুর মাছঘাটে আমদানি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৭শ’ মন ইলিশ। আর এসব ইলিশেই কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মাঝে।

বড়স্টেশন ঘাটের মাছ ব্যবসায়ী বিপ্লব ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চললেও অনেক অসাধু জেলে চুরি করে মাছ ধরে। সেসব মাছ চট্টগ্রামে বিক্রি করতে না পারায় অনেকেই নৌকায় করে চাঁদপুর মাছঘাটে নিয়ে আসে। স্থানীয় নদীতে ইলিশ পাচ্ছে না জেলেরা। তাই উপকূল থেকে মাছ আসে বলেই চাঁদপুরে এখন ইলিশ দেখা যায়।

আরেক ইলিশ ব্যবসায়ী আলী আকবর বলেন, দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ইলিশের তুলনায় স্থানীয় নদীর ইলিশের দাম কিছুটা বেশি। বর্তমানে চাঁদপুরের বাজারে উপকূলীয় অঞ্চলের ১ কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে সাড়ে ৭শ’ টাকায়।

আর ৭শ’-৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা এবং ছোট সাইজের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া স্থানীয় নদীর ১২শ’ থেকে ১৩শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা, এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকা এবং ৬শ’ থেকে ৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা দরে।

তবে ঘাটে আমদানিকৃত এসব ইলিশ উপকূলীয় অঞ্চলের হলেও তা সাগরের নিষিদ্ধ এলাকার নয় দাবি চাঁদপুর মৎস্য ব্যবসায়ী বণিক সমিতি সভাপতি আবদুল বারী জমাদারের।

তিনি বলেন, চাঁদপুরের লোকাল নদীতে ইলিশের আমদানি এখন অনেক কম। হাতিয়া, ভোলার চরফ্যাশন, মনপুরাসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে ধরা পড়া ইলিশ চাঁদপুর ঘাটে আমদানি করা হচ্ছে। উপকূলের নিষিদ্ধ এলাকার ইলিশ এই ঘাটে আসে না।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, সমুদ্র উপকূলে এখন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। ওই এলাকার মৎস্য কর্মকর্তারা সাগর উপকূলে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, তারপরেও হয়তো কিছু জেলে মাছ ধরে থাকতে পারেন। তবে নিষিদ্ধ উপকূলের ইলিশ চাঁদপুরে আমদানি করা হয় কিনা তা আমার জানা নেই। যদি এমনটা হয়ে থাকে তবে অবশ্যই তা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই কর্মকর্তা আরও বলেন, এ বছর এখন পর্যন্ত খুব একটা বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। তাই পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের জালে ইলিশ তেমন একটা মিলছে না। ভারী বর্ষণ হলে সাগর থেকে ইলিশ নদীতে উঠে আসবে। আশা করি, তখন জেলেরা তাদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাবেন।