দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের বালুপাড়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের রঙিন ঘরগুলোতে উঠেছে ২৫২টি গৃহহীন পরিবার। কদিন আগেও যারা ছিলেন ভূমিহীন, গৃহহীন ওই সব প্রতিবন্ধী, পারিবারিক বিচ্ছেদের শিকার নারী, অতিশয় বৃদ্ধ, বিধবা, ভিক্ষুক, দুস্থ পরিবারের সদস্যদের চোখে এখন নতুনভাবে বাঁচার রঙিন স্বপ্ন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এটি দেশের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প। ‘প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্প-২’-এর আওতায় নান্দনিকভাবে নির্মিত প্রকল্পটির নাম দেওয়া হয় ‘শেখ হাসিনা ভিলেজ’। পরে এখানকার বাসিন্দারা ভালোবেসে বাংলায় এর নামকরণ করেন ‘শেখ হাসিনা গ্রাম’।
শেখ হাসিনা ভিলেজ হয়ে উঠেছে একটি আদর্শ গ্রাম। প্রতিটি ঘরে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎসংযোগ, পানির ব্যবস্থার জন্য বসানো হয়েছে নলকূপ। আছে উন্মুক্ত খেলার মাঠ, প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনালয় ও কাঁচাবাজার। রয়েছে কবরস্থান ও শ্মশান। পুরো শেখ হাসিনা ভিলেজ ঘিরে থাকবে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের আওতায়। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হবে গ্রাম পুলিশের স্থায়ী ঘরের ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর অভিনব ও চমকপ্রদ এ কর্মসূচিতে প্রতি পরিবারের জন্য রয়েছে দুই শতক জমি। এর ওপর করা হয়েছে রঙিন টিনের দুটি পাকা ঘর, পাকা মেঝের ঘরগুলোতে লাগানো হয়েছে উন্নতমানের জানালা ও দরজা। আছে লাগোয়া বারান্দা ও রান্নাঘর। তবে শৌচাগারের ব্যবস্থা আলাদা। এসব প্রতি বাসগৃহের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে ‘ক’ শ্রেণির ভূমিহীনদের মধ্যে ঘরের চাবি, কবুলীয় দলিল, নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর প্রদান করা হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে এসব ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে কথা হয় শেখ হাসিনা ভিলেজের সুবিধাভোগী শারীরিক প্রতিবন্ধী জোবেদা বেওয়া (৯০) ও তার ছেলে বাকপ্রতিবন্ধী অহিদুল ইসলামের (৫৬) সঙ্গে। জোবেদা বলেন, ‘মুই অচল, চলিবার পারো না বাহ, মোর ঘর তৈরি করার মুরদ আছিল না। ঘর পায়া মুই খুব খুশি। জীবনেও মুই পাকা ঘরোত থাকিবার পারিম কখনো ভাবো নাই।’ সেলিনা বেগম বলেন, ‘অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতাম, থাকতাম ঘর ভাড়া। খুব কষ্টে দিন কাটত। এখন আমার নিজের বাড়ি হয়েছে।’
ইউএনও রিয়াজ উদ্দীন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ণ প্রকল্প এটি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। একসঙ্গে এত পরিবারের বসবাস দেশের আর কোনো প্রকল্পে নেই।
ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মিল্টন বলেন, স্থানীয় সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারের একান্ত প্রচেষ্টায় এ উপজেলায় গৃহহীনদের জন্য সবচেয়ে বেশি বাড়ি বরাদ্দ হয়েছে।