ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সময় জোয়ারের লোনা পানি ঢুকে হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের কোরালিয়া গ্রামের ৭৮৪ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোরালিয়ার বেড়িবাঁধ ১৯ জায়গায় ভেঙে জোয়ারের লোনা পানি গ্রামে প্রবেশ করে। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট কোমর পানিতে ডুবে যায়। গ্রামের পুকুরের ও প্রজেক্টের মাছ পানিতে ভেসে যায়। চাল, ডালসহ সকল খাদ্যদ্রব্য পানিতে ভিজে যায়।
সোমবার কোরালিয়ার ভাঙা বেড়িবাঁধ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে গ্রাম ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে তাদের দুর্দশার এই চিত্র জানা যায়।
গ্রামবাসী আবদুল মান্নান ও জরিনা বেগম জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানির তোড়ে তাদের ঘরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তাদের দুই পরিবারসহ আট পরিবার বেড়িবাঁধের পূর্ব দিকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় মাছ ব্যাপারী সাহাব উদ্দিন ও অন্যান্যরা এ পরিবারগুলোকে খাবার দিয়ে সহায়তা করছেন।
গত মঙ্গলবার ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি ঢুকে বসতবাড়ি ডুবে যাওয়ার পর থেকে সঞ্জয় দাস (৩৫) স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে নৌকার মধ্যে বসবাস শুরু করেন। তিনি জানান, বসত ঘরের ভেতরে বাইরে প্রচুর পানি। ঘর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। তাই স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছি।
কোরালিয়া গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবারের ঘর ও চুলা পানিতে ডুবে আছে। দিনে দুবার বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ দিয়ে জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকছে। এ পরিবারগুলোর রান্নাবান্না চলছে চৌকির ওপরে। লোনা পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কাঁচা ঘরের ভিটির মাটি সরে গেছে বা নরম হয়ে গেছে। এতে ঘরগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে। অনেক ঘর একদিকে হেলে পড়েছে। চাল, ডালসহ সকল খাদ্যদ্রব্য পানিতে ভিজে গেছে।
কৃষকেরা বলেন, লোনা পানিতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাবে। ভবিষ্যতে এসব জমিতে ফসল উৎপাদন কমে যাবে। তবে ভুক্তভোগীরা সবাই ত্রাণ নয় দ্রুত বেড়িবাঁধের মেরামত চান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম জানান, বাড়িতে জীবনধারণের পরিবেশ নেই, তাই বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শতাধিক পরিবারের শিশুসহ অনেক সদস্যকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তমরদ্দি ইউপি চেয়ারম্যান ফররুক আহাম্মদ বলেন, কোরালিয়া ও ক্ষিরোদিয়া বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ইউনিয়নের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দ্রুত ভাঙা বেড়িবাঁধ মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানি ঢুকে তমরদ্দি ছাড়াও সোনাদিয়া, চরকিং, সুখচর, নলচিরা ও নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের লোনা পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।