সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে রিভলবার ঠেকিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড এলাকার তপন রবিদাস নামের ওই ব্যক্তি গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে ওই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
তপন রবিদাস জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন চৌধুরীর অনুসারী। ক্যানসারে আক্রান্ত স্বপন চৌধুরী একা চলাফেরা করতে না পারায় তাকে দেখাশোনা করেন তপন রবিদাস।
গতকাল টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তপন রবিদাস জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্বপন চৌধুরীকে ফিজিওথেরাপি দেওয়াতে নেওয়ার জন্য শহরের কলেজপাড়া এলাকায় যান। এ সময় আমানুর রহমান খান রানা গাড়ি ও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে এ এলাকায় তিনি (তপন) কী করছেন তা জানতে চান। স্বপন চৌধুরীর কাজ করছেন জানালে রানা ক্ষিপ্ত হয়ে রিভলবার বের করে তার পেটে ঠেকিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাঙ্গাইল ছেড়ে চলে যেতে বলেন। পরে দেখলেই গুলি করে প্রাণে মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন রানা।
আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যাকাণ্ডে আমানুর রহমান খান রানা জড়িত থাকার বিষয়টি পুলিশি তদন্তে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বের হয়ে আসে। এরপর তিনি আত্মগোপন করেন। দুই বছর পলাতক থাকার পর ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। ২২ মাস হাজতবাসের পর ২০১৯ সালের ৯ জুলাই উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান। ফারুক হত্যা মামলায় রানার ভাই সাবেক পৌর মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি এখনো কারাগারে আছেন। অপর দুই ভাই পলাতক রয়েছেন।
রানা ও তার ভাইয়েরা স্বপন চৌধুরীর বড় ভাই সাবেক পৌর কাউন্সিলর রুমি চৌধুরী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক বিবেচনায় রুমি চৌধুরী হত্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। অপরদিকে রানার বড় ভাই আমিনুর রহমান খান বাপ্পী হত্যা মামলার আসামি রুমি চৌধুরী। মামলাটি টাঙ্গাইল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
গতকালের বিষয়টি নিয়ে আমানুর রহমান খান রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। আর তপন নামের কাউকে তিনি কখনো দেখেননি।