মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভোলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলেও মডেল উপজেলা হিসেবে খ্যাত ‘মনপুরা উপজেলায়’ বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের অভিযোগ, এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইন ক্লাস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে মনপুরার আগামী প্রজন্ম ডিজিটাল যুগ থেকে পিছিয়ে পড়বে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় মনপুরা প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চাই নাগরিক কমিটির আয়োজনে এক মানববন্ধনে এসব বলেন বক্তারা।
মানববন্ধনে বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এ.এফ.এম রিয়াদের সভাপতিত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, দিনমজুরসহ সর্বস্তরের হাজারেরও বেশি মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একেএম শাহজাহান মিয়া বলেন, মনপুরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের দ্বীপ। তিনি বেঁচে থাকলে এখানে দ্বিতীয় আবাস করতেন। সাংসদ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব মনপুরায় সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। শুধু বিদ্যুতের অভাবে সাধারণ শিক্ষার্থী ডিজিটাল যুগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে।
২ নম্বর হাজিরহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার চৌধুরী দীপক বলেন, অনেক বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ডিজিটাল যুগে পর্দাপণ করেছে। কিন্তু মনপুরায় সংযোগ দেওয়া হয়নি। সাবেক বিদ্যুৎ সচিব মনপুরা পরিদর্শনে এসে শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মনপুরাবাসী বাস্তবে জাতীয় গ্রিডের সেই বিদ্যুতের খুঁটি আজো দেখতে পায়নি।
৪ নম্বর দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলি উল্লাহ কাজল তার বক্তব্যে বলেন, মনপুরার সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতের অভাবে ক্লাসরুমে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে না। ৩টি ইউনিয়নে মিনি সোলার গ্রিডের বিদ্যুৎ থাকলেও তা বেশিরভাগ মানুষ পাচ্ছে না। সোলার গ্রিডের ইউনিট চার্জ ৩০ টাকা। যা পৃথিবীর কোথাও নেই। তা ছাড়া মনপুরার মানুষ নিতান্তই দিনমজুর। মাস শেষে তাদের পক্ষে ৩০ টাকা ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
মনপুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সরকারের মুজিব বর্ষের অঙ্গিকার বাস্তবায়ন হিসেবে মনপুরায়ও যেন জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়।
মানববন্ধনে ‘মনপুরায় জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চাই, ন্যায্যমূল্যে বিদ্যুৎ চাই’ সোলার গ্রিডের রক্তচোষা দাম বন্ধ হোক, শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ চাই’ সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে স্লোগান তোলেন উপস্থিত জনতা।
তারা বলেন, বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা মনপুরার ইলিশসহ অনেক পণ্য থেকে সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। অথচ এই দ্বীপের মানুষ সামান্য বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত। সরকারি ব্যবস্থাপনায় উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ থাকলেও তা অল্পসংখ্যক বাসিন্দা পাচ্ছেন। তাও রাতে মাত্র ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩টি ইউনিয়নে থাকা সোলার গ্রিড কোম্পানি গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নিচ্ছে ৩০ টাকা। যা এখানকার মানুষের জন্য খুব কষ্টসাধ্য।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শামীম মিঞা ও উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম ফারেজ সামি, মনপুরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহবুব আলম শাহিন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শামসুদ্দিন সাগর, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুস সামাদ প্রমুখ।