সেরা পাঁচ দর্শনীয় বিমানবন্দর

বিমানবন্দর শুধু বিমান অবতরণের কাজে ব্যবহৃত হয়, তা নয়। ট্রানজিটে যাত্রীদের অপেক্ষার সময়কে উপভোগ্য করে তুলতে পারে বিমানবন্দর। ঐতিহ্য ও কৃষ্টির ছোঁয়ায় যাত্রী ও দর্শনার্থীদের মন জয় করতে পারে। বিশ্বের দর্শনীয় পাঁচ বিমানবন্দর নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা

চাঙ্গি বিমানবন্দর, সিঙ্গাপুর

সবুজেঘেরা মনোরম বিমানবন্দর সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর। দুইশোর বেশি গন্তব্যে কেন্দ্র এটি। ৮০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস সপ্তাহে ৫ হাজারের বেশি তাদের বিমান অবতরণ করায় এখানে। যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিমানবন্দরটিকে সবার চেয়ে আলাদা করেছে তা হলো সবুজ। বিমানবন্দরের ভেতরে প্রাকৃতিক গাছের সমারোহ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। এর প্রতিটি টানেলে রয়েছে একটি করে বোটানিক্যাল গার্ডেন। এখানেই শেষ নয়, সেখানে সূর্যমুখী বাগানে প্রায় এক হাজারের মতো প্রজাপতি খেলা করে। বিরল প্রজাতির অর্কিড দিয়ে বানানো হয়েছে অর্কিড বাগান। বিমানবন্দরের ছাদে বানানো হয়েছে ক্যাকটাস বাগান। সেখানে ১০০-এর বেশি প্রজাতির ক্যাকটাস ও সাকিউলেন্ট (এক প্রকার রসালো পাতাযুক্ত গাছ) রয়েছে। এসব আয়োজন করা হয়েছে যাত্রীদের মনে আলাদা ছাপ ফেলার জন্য। গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার আগেই যে কেউ যেন এই এয়ারপোর্টে এসে থমকে যায়। চমকের জন্যই এত আয়োজন।

বিমানবন্দর এর চমৎকার রানওয়ে, লাউঞ্জ ও টার্মিনালের জন্য বিখ্যাত। ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার দিকে নজর রেখেছে বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ। যাত্রীদের বিনোদনের জন্য রয়েছে প্লে-স্টেশন গেম, টার্মিনালঘেঁষা বাগান, মুভি থিয়েটারে চলছে একের পর এক সিনেমা। এমনকি কেউ যদি প্রকৃতির স্বাদ নিতে চায় শাটল বাসে থাকা ট্যুরগাইড তাকে দ্বীপের চারপাশ থেকে ঘুরিয়ে আনার জন্যও তৈরি রয়েছেন।

চাঙ্গি বিমানবন্দরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে রয়েছে অসংখ্য পুকুর। মুভি থিয়েটারে সিনেমা দেখে, ২৪ ঘণ্টা সচল স্পা-বারে অথবা রুফটপ সুইমিং পুলে সাঁতার কেটে যে কেউ তার ট্রানজিটের সময়টুকু আনন্দে কাটিয়ে নিতে পারে। স্কাইট্র্যাক্স ওয়ার্ড এয়ারপোর্ট অ্যাওয়ার্ড টানা ছয়বারের মতো এই বিমানবন্দরকে সেরা বিমানবন্দরের স্বীকৃতি দিয়ে গেছে। এটুকু তো সত্যি যে, কর্র্তৃপক্ষের আগ্রহ ও প্রকৃতির যতেœ এই বিমানবন্দরকে অনন্য করে তুলেছে।

দর্শনার্থীদের দেশ ভ্রমণে আগ্রহী করে তোলায় এই বিমানবন্দরের অবদান রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ট্রানজিট হাব চাঙ্গি। সিঙ্গাপুরের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এই বিমানবন্দরের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বিলাসবহুল সুবিধা, দারুণ স্থাপত্যশৈলী, খাবার এবং কেনাকাটার বাড়তি সুবিধা পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকে।

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চীন

চেক ল্যাপ কোকের কৃত্রিম দ্বীপে হংকং উপকূলে দাঁড়িয়ে আছে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। হংকংয়ের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর অন্যতম এটি। দর্শনার্থীদের চমকে দেওয়ার জন্য আছে অ্যাভিয়েশন ডিসকভারি সেন্টার ও ছোট্ট একটি বিমান জাদুঘর। যে কেউ এখানে এসে বিমান ল্যান্ডিং থেকে শুরু করে বিমান চালানোর খুঁটিনাটি সম্বন্ধে জানতে পারেন। শুধু এখানেই থেমে নেই চমক। চীনের বৃহত্তম আইম্যাক্স থিয়েটার রয়েছে এখানে। ক্রীড়াপ্রেমীদের আনন্দদানের জন্য রয়েছে গ্রিন লাইভ এয়ার। সেখানে স্কাইসিটি নাইন ঈগল গলফ ও বিমানবন্দরের ভেতরেই গলফের স্বাদ পেতে আছে ভার্চুয়াল গলফ সিমুলেশন রুম। শিশুদের জন্য রয়েছে শিক্ষামূলক পার্ক। ল্যান কোয়াই ফং বারে অতিথি আপ্যায়নের জন্য ফ্রি ককটেল দেওয়া হয়। এসব সুবিধা ছাপিয়ে যদি স্থাপত্যশৈলীর দিকে তাকাই তবে দেখা যাবে বিশাল আকৃতি ও দারুণ স্থাপত্যের জন্যই মানুষের নজর কাড়বে এটি। বিমানবন্দর মানেই যেন হেঁটে হেঁটে ঘুরে দেখা। বিশাল আকৃতির বিমানবন্দর হলে তাই আরও বেশি পথ হাঁটতে হবে। আইম্যাক্স থিয়েটার দেবে সিনেমার স্বাদ। অ্যারোমেটিক স্পা, ভার্চুয়াল গলফ কোর্স থেকে শুরু করে নানা ব্র্যান্ডের দোকান-দর্শনার্থীরা যেন বিরক্ত না হন, সেজন্য যা যা থাকা দরকার কর্র্তৃপক্ষ যেন সবই সাজিয়ে রেখেছে পাশাপাশি।

হংকং এয়ারলাইনস, এইচকে এক্সপ্রেস, ক্যাথে প্যাসিফিক ও ক্যাথে ড্রাগনের মতো নামকরা এয়ারলাইনসের হেড অফিস ও মেইন হাব হংকং বিমানবন্দরে অবস্থিত। কৃত্রিম দ্বীপের ওপরে অবস্থিত এই বিমানবন্দরের স্কাইডেক ছাদের দৃশ্য দেখার জন্যই অনেক দর্শনার্থী এখানে আসেন। এ ছাড়া বিমান ও বিমানের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী যে কারও জন্য বিমানবন্দরের জাদুঘর রীতিমতো স্বর্গ।

ইনচন বিমানবন্দর, দক্ষিণ কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এটিকে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের একটি হিসেবে ধরা হয়। প্রাইভেট ডর্ম, গলফ কোর্স, স্পা সেন্টার ও একটি দারুণ বাগানের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এটি। ট্রানজিটের সময় যদি অনেক লম্বা হয় তাহলে যে কেউ এখানের ডর্মে ঘুমিয়ে নিতে পারবেন। দর্শনার্থী ও যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিমানবন্দর ডর্মে কোনো খরচ লাগবে না। কেউ যদি এখানে ঘুমাতে না চান সে ক্ষেত্রে খরচ ছাড়াই গোসলের সুব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে যাত্রীদের জন্য ফ্রি টুথপেস্ট, টুথব্রাশ, চুল শুকিয়ে নেওয়ার জন্য হেয়ার ড্রায়ার, সাবান ও তোয়ালে দেওয়া হবে।

টার্মিনালের অন্ধকার স্থানে আরামদায়ক লাউঞ্জ রয়েছে। যেখানে যাত্রীরা তাদের প্রয়োজনমতো ঘুমিয়ে নিতে পারবেন। ইনচন বিমানবন্দরে দেশ-জাতি-নির্বিশেষে যেকেউ প্রয়োজনীয় খাবার যেন পায় সে ব্যাপারে লক্ষ রাখা হয়েছে। সব বিমানবন্দরের মতো কেনাকাটার সুবিধা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যোগ করেছে বাড়তি আকর্ষণ। কোরিয়ান সংস্কৃতি নিয়ে একটি জাদুঘর রয়েছে। বিমানবন্দরের কারুশিল্প এলাকায় বিক্রির জন্য রয়েছে ঐতিহ্যবাহী কোরিয়ান ব্যাগ ও হাতপাখা।

সাংস্কৃতিক আবহে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে ইনচন বিমানবন্দরকে। মস্কড্যান্স (বিশেষ ধরনের নাচ) অনুষ্ঠানের জন্য এই বিমানবন্দর বিখ্যাত। যাত্রী ও দর্শনার্থীরা এই নাচ দেখার মধ্য দিয়ে কোরিয়ান সংস্কৃতি সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। কোরিয়ান ঐতিহ্য বহন করা কিছু বাগান রয়েছে এই বিমানবন্দর এলাকায়। সাতটি ইকো গার্ডেন, ৭২টি গর্তের একটি বিশাল গলফ কোর্স, স্কেটিংয়ের জন্য বানানো হয়েছে কৃত্রিম আইস রিংক। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে ও অভিজাত এই বিমানবন্দরটি বিশ্বের এয়ারলাইনস পুরস্কার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান স্কাইট্র্যাক্স থেকে পেয়েছে ফাইভ স্টার রেটিং।

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর, মালয়েশিয়া

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নিজেকে বিমানবন্দরের বদলে একটি বাগানবাড়ি বলে দাবি করতে পারে। এই বিমানবন্দরের দুটি টার্মিনাল রয়েছে। মূল টার্মিনাল কেএলআইএ মেইন ও নতুন টার্মিনাল-২ যাকে কেএলআইএ-২ নামে ডাকা হয়। অসংখ্য টিভি ও ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধার জন্য এই বিমানবন্দর বিখ্যাত। বিমানবন্দর ঘুরলে যে কারও মনে হতে পারে এটি একটি বাগানবাড়ি। প্রাকৃতিক উপকরণের দিকে চোখ গেলেই দেখা যাবে ৮৬ প্রজাতির গাছ ও মুষ্টিমেয় কিছু ঝরনা মালয়েশিয়ার প্রধান বিমানবন্দরটিকে ঘিরে রেখেছে। বিমানবন্দরের মূল ভবনের পাশেই রয়েছে স্যাটেলাইট টার্মিনাল ভবন। যাত্রী ও দর্শনার্থীরা সাধারণত স্যাটেলাইট টার্মিনাল বাগানে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা দেখে অবাক হবেন। বৃত্তাকার কাচের ভেতর দিয়ে দেখা বড় বড় খেজুরগাছ যেন কাউকে বিস্মিত করে দেওয়ার জন্যই দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে জঙ্গলের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া কাঠের পাটাতনের রাস্তা যে কাউকে রূপকথার ওয়াল্ট ডিজনির তুষারকণার বনে হারিয়ে যাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতে পারে। সেই রাস্তা চলে গেছে বিমানবন্দরের পাশের রেইন ফরেস্ট পর্যন্ত। এই রাস্তা ধরে এগোলে চোখে পড়বে জলপ্রপাত। কর্র্তৃপক্ষ যেন বিমানবন্দরের সঙ্গে সবুজের ছোঁয়া রাখতে বদ্ধপরিকর। তাই ‘বিমানবন্দরের মাঝে বন’ নাকি ‘বনের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে আস্ত একটি বিমানবন্দর’ সেই ধাঁধায় ফেলে দিতে চেয়েছে দর্শনার্থীদের।

ঘুরে দেখা শেষ হলে স্পা ও মাসাজ পার্লারে গিয়ে শান্তিময় মুহূর্ত কাটিয়ে আসতে পারেন। মলে ঘোরাঘুরি শেষ হলে বিশ্রামের জন্য রয়েছে ক্যাপসুল ট্রানজিট এয়ারপোর্ট হোটেল। নাম শুনে অদ্ভুত মনে হতে পারে। এই হোটেল ক্যাপসুল স্টাইলের বিছানা ও গোসলখানার সুবিধা দিয়ে থাকে বলে হোটেলের এই নামকরণ। যাত্রীরা তাদের লাগেজও টার্মিনালের এই হোটেলে রাখতে পারবেন।

বিমানবন্দরটি ৩৯ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে অবস্থিত। রানওয়ে থেকে বিমানের নেমে আসা ঠিকঠাক দেখার জন্য একটি ‘স্পটার্স ডেক’ তৈরির পরিকল্পনা করেছে বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ। মালয়েশিয়ার ব্যস্ততম ও বৃহত্তম এবং বিশ্বের ২৩তম ব্যস্ত বিমানবন্দর হিসেবে এটি সবার কাছে পরিচিত।

হিথ্রো বিমানবন্দর, লন্ডন

যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা অনুযায়ী যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ব্যস্ততম বিমানবন্দর লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর। বেশির ভাগ যাত্রী বিমানে চড়ার জন্য এই বিমানবন্দরে আসেন। অনেকে আবার খাবার খাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে যান। বিশ্বের সপ্তম ব্যস্ততম বিমানবন্দর এটি। ভার্জিন আটলান্টিক ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কেন্দ্রীয় হাব এখানে অবস্থিত।

বিমানবন্দরটিতে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি বিমান ছেড়ে চলে যায় কিংবা এসে ল্যান্ড করে। এই বিমানবন্দর থেকে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর মধ্যে পড়ে দুবাই, ডাবলিন, নিউ ইয়র্ক, আমস্টারডাম ও হংকং। বিমানবন্দরটিতে ৬টি টার্মিনাল রয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ৫টি টার্মিনাল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। ষষ্ঠ টার্মিনালটি খুবই ছোট। শুধু রাষ্ট্রপ্রধান, অতিথি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিশেষ তারকাদের জন্য এই টার্মিনাল উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দরের প্রধান দুটি টার্মিনাল হলো ‘ইউরোপা’ ও ‘ওশেনিক’। হিথ্রো এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস এই বিমানবন্দরের মালিক। বিমানবন্দর পরিচালনার সব দায়িত্বে রয়েছে তারা। প্রতিদিন রাত সাড়ে ১১টায় হিথ্রো বিমানবন্দরের ফ্লাইট বন্ধ হয়, আবার ভোর সাড়ে ৪টায় ফ্লাইট শুরু হয়। প্রতিটি বিমানবন্দরে বিমান অবতরণের জন্য থাকে বিশেষ কোড। হিথ্রো বিমানবন্দরের কোড এলএইচআর।

প্রায় ৪.৭৪ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে রয়েছে এই বিমানবন্দরটি। এই বিমানবন্দরের কয়েকজন আবাসিক প্রেস কর্পস (নিউজ রিপোর্টার) রয়েছেন। এতে একজন টিভি ক্রু ও ছয়জন ফটোগ্রাফার অন্তর্ভুক্ত। যারা বিশ্বের সব গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র ও টিভি স্টেশনে খবর সরবরাহ করে থাকেন। টার্মিনাল-৫-এর নিচ দিয়ে চলে গেছে একটি ট্রেনস্টেশন। সেই ট্রেনের বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা রয়েছে টার্মিনাল-৫-এ। 

এই বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার খুব লম্বা। ৮৭ মিটার লম্বা এই কন্ট্রোল টাওয়ার এই বিমানবন্দরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। টাওয়ারের ডিজাইন করেছে রিচার্ড রজার্স পার্টনারশিপ। মূল প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছে অরূপ গ্রুপ। নির্মাণকাজ শেষে ২০০৫ সালে শেষভাগে বিশাল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই টাওয়ার উদ্বোধন করা হয়।  বিমানবন্দরের দুটো রানওয়ে রয়েছে। প্রতি দশ বছর অন্তর এই রানওয়ে পুনর্নির্মাণ করা হয়। হিথ্রোতে ভাস্কর্যের প্রদর্শনী ছাড়াও প্রতিটি টার্মিনালে রয়েছে আন্তর্জাতিক বুটিক হাউজের দোকান ও অন্যান্য শিল্পের পসরা। যাত্রী ও দর্শনার্থীদের কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে এই বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ। বিশ্বের সেরা দশ বিমানবন্দরের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এটি।