সেতুর কর্নার ভেঙে দোকানে ওঠার সিঁড়ি!

ঢাকার কেরানীগঞ্জে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ভাঙা হয়েছে সরকারি একটি সেতুর অংশবিশেষ। একটি মার্কেটের দ্বিতীয় তলার দোকান থেকে সুবিধাজনকভাবে নামার জন্য সেতুটির প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে স্থাপন করা হয়েছে ইস্পাতের তৈরি একটি ব্যক্তিগত সিঁড়ি। এতে করে সেতুটিতে ফাটল তৈরি হয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েছে পুরো সেতুটি, যে সেতু দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে হাজার হাজার লোক। ঘটনাটি ঘটেছে কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর জিলা পরিষদ মার্কেট এলাকায়।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লীর কালীগঞ্জ জিলা পরিষদ রোডে গিয়ে দেখা যায়, শুভাঢ্যা খালের ওপর জিলা পরিষদ মার্কেট ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি সেতু। সেতুটি অনেক আগেই নির্মাণ করা হয়েছিল। সেতুটির একপাড়ে জিলা পরিষদ মার্কেট, অন্যপাড়ে নুরু সুপার মার্কেট। নুরু সুপার মার্কেটের দ্বিতীয় তলার একটি দোকান থেকে সুবিধাজনকভাবে নামার জন্য সেতুর প্রতিরক্ষা দেয়াল ভেঙে নামানো হয়েছে ইস্পাতের তৈরি একটি ব্যক্তিগত সিঁড়ি। সিঁড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে দুই বছর আগে। এতদিন তেমন সমস্যা না হলেও এখন সেতুর যে স্থানে প্রতিরক্ষা দেয়াল ভাঙা হয়েছে সেখানে ধীরে ধীরে বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে পুরো সেতুটি।

স্থানীয় অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকান মালিক নিজের সুবিধার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও কালীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লীর মালিক সমিতির আগের কমিটিকে ‘ম্যানেজ’ করে সেতু ভেঙে সিঁড়ি স্থাপন করেছিলেন। এতদিন তেমন সমস্যা না হলেও এখন ভাঙা অংশের পাশে ফাটল তৈরি হয়ে ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে। ফাটলটি দিন দিন বড় হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবু মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার লোকের চলাচল। একটা লোক তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এভাবে সেতুর একটা অংশ ভেঙে ফেলল এটা কল্পনাতীত। এর সঙ্গে অবশ্যই প্রশাসনের লোক জড়িত। না হলে যে কেউ সরকারি সম্পদে হাত দেওয়ার সাহস করবে না। এর দ্রুত বিচার হওয়া উচিত।’

সেতু ভাঙায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা হাজি মো. কাসেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দ্রুত এর একটা ব্যবস্থা করা দরকার, এভাবে যে কেউ চাইলেই রাষ্ট্রের সম্পদ নষ্ট করতে পারে না। এখানে যাদের হাত আছে, যাদের ম্যানেজ করে এ কাজ করা হয়েছে, সবার বিচার হওয়া উচিত। আর দ্রুতই সেতুর ভাঙা অংশ মেরামত করা দরকার।’

সেতু ভেঙে সিঁড়ি নির্মাণের সময় সেতুটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা কর্র্তৃপক্ষ অথবা উপজেলা প্রশাসনের কারও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে দোকান মালিক মো. কাওসার বলেন, ‘এটা তো মালিক সমিতির অধীনে, মালিক সমিতি সব জানে। আপনি মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলেন, আমাকে প্রশ্ন না করে সমিতিতে জিজ্ঞাসা করেন, সব উত্তর পেয়ে যাবেন।’

এ প্রসঙ্গে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিঁড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল দুই-তিন বছর আগে, তখন আমি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। কে কী করেছে বলতে পারি না, তবে আমি বাধা দিয়েছিলাম সেতুর অংশ ভেঙে সিঁড়ি নির্মাণে। কারণ এটা সরকারি সম্পদ। কিন্তু তারা আমার কথা শোনেনি। দোকানদার প্রভাব খাটিয়ে সিঁড়ি নির্মাণ করেছে। সিঁড়িটা এখানে থাকলে সেতুর ক্ষতি হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব যেন সিঁড়িটি এখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ‘সরকারি অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিস্বার্থে যে কেউ চাইলেই এমন করতে পারে না। আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নোটিস করব। ব্যাপারটি আমি এখন জানলাম, ঘটনাস্থলে আমার লোক পাঠাচ্ছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিচ্ছি।’