ইজারাদারের স্বেচ্ছাচারিতায় ক্রেতা-বিক্রেতারা ক্ষুব্ধ

নীলফামারীর ডোমারের ঐতিহ্যবাহী ‘আমবাড়ী হাট’ যেন টোল আদায়ের নৈরাজ্যখানা। আমবাড়ী হাটে পণ্য বেচাকেনা করতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছে নানা অজুহাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দুই থেকে তিনগুণ টোল আদায় করছেন ইজারাদার।

সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী হাটে বাধ্যতামূলক টোল আদায়ের তালিকা টাঙানোর কথা থাকলেও সেই তালিকা নেই এই হাটে।

ফলে অসহায় হয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ইজারাদারকে বাড়তি টোল দিতে বাধ্য হচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। এতে ইজারাদারসহ হাট সংশ্লিষ্টদের পকেট ভারী হলেও পকেট কাটা যাচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গোমনাতী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী আমবাড়ী হাট। প্রতি সপ্তাহে দুদিন মঙ্গল ও শুক্রবার বসে এই হাট। জেলার ছয় উপজেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এই হাটে এসে গরু, ছাগল, ধান, চাল, হাঁস, মুরগি, কবুতর, সুপারি ও বাইসাইকেলসহ নানা পণ্য ও পশুপাখি বেচাকেনা করেন।

গত মঙ্গল ও শুক্রবার দুপুরে আমবাড়ী হাটে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষের সমাগমে ভরপুর হাটটি। বিভিন্ন স্থানে গরু, ছাগল, ধান, চাল, পাট, হাঁস, মুরগি, কবুতর, সুপারি ও বাইসাইকেলসহ নানা পণ্য ও পশুপাখি বেচাকেনা চলছে। জেলার ছয় উপজেলা ছাড়াও ক্রেতা-বিক্রেতারা এসেছেন আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে। কেউ পণ্য বিক্রি করছেন, কেউ আবার সেই পণ্য কিনছেন।

এ-সময় অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা অভিযোগ করেন, পশুসহ বিভিন্ন পণ্য বেচাকেনায় সরকার নির্ধারিত হারের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি টোল আদায় করছে হাট সংশ্লিষ্টরা।

হাটের প্রবেশমুখে কথা হয় পঞ্চগড় জেলা থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী দুই ভাই হেলাল উদ্দিন (৫০) ও  মো. স্বপন হোসেনের (৪০) সঙ্গে। এদের মধ্যে বড়ভাই হেলাল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্যান্য হাটের চেয়ে এই আমবাড়ী হাটে গরু কিনলে টোলের পরিমাণ বেশি দিতে হয়। নতুন ইজারাদার চলতি বাংলা সনে টোল বাড়িয়েছেন।’

অনিয়মের বিষয়ে হাটের ইজারাদার খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘১৪২৮ বাংলা সনের জন্য ৬৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় হাটটি ইজারা নিই। আশপাশের হাটগুলোতে যে হারে টোল নেওয়া হয়, আমরাও তা নিই। সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টোল কেন নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে হাটে বেচাকেনা কম হওয়ায় লোকসান হচ্ছে। তাই সামান্য কিছু বেশি টোল নিচ্ছি।’

আমবাড়ী হাট পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোমনাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হামিদ বলেন, প্রতি হাটে ক্রেতা-বিক্রেতারা ইজারাদারের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায় করার অভিযোগ করছেন আমার কাছে। মৌখিকভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’ এ বিষয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম বলেন, ‘এর আগেও অনেকেই আমাকে অভিযোগ করেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখব যদি কেউ অতিরিক্ত টোল নিয়ে থাকে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’