আবাহনী-মোহামেডানের হারে শীর্ষে দোলেশ্বর

টানা তিন জয়ে ছুটছিল আবাহনী-মোহামেডান। একসঙ্গে হারল দুই জায়ান্ট। মোহামেডানের চেয়ে আবাহনীর হারটাই হতাশার বেশি। সাকিব আল হাসানরা ১৬ রানে হেরেছে সর্বশেষ ডিপিএলের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের কাছে। কিন্তু মুশফিকুর রহিমের আবাহনী ৮ রানে হেরেছে তাদের চেয়ে শক্তিতে পিছিয়ে খেলাঘরের কাছে। দুই জায়ান্টের হারের সুবিধা কাজে লাগিয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। নামি ক্রিকেটার ছাড়াই দলটি জয়রথ টানা চতুর্থ জয়ে উঠে গেছে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। শাইনপুকুরের সঙ্গে রোমাঞ্চকর ম্যাচে মাত্র ২ বল হাতে রেখে আসরে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৬৩ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে জিতেছে দলটি। ৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৭ পয়েন্ট। দোলেশ্বরের পরে সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে প্রাইম ব্যাংক, আবাহনী ও মোহামেডান।

বলা যায় মুশফিক ব্যর্থ তো দলও ব্যর্থ। খেলাঘরের দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৫ উইকেটে ১৫৬ রানে আটকে যায় তারকা ক্রিকেটারে ঠাসা আবাহনী। টি-টোয়েন্টিতে অভিষিক্ত অফস্পিনার রনি চৌধুরীর জোড়া ধাক্কায় ১২ রানে ২ উইকেট (৮ রান করা মুশফিককেসহ) হারায় তারা। এরপর নাঈম শেখ ৪২ বলে ৪৯, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৩ বলে ৪৯ করে দলকে কক্ষপথেই রাখেন। কিন্তু মোসাদ্দেক (২১)-আফিফ (২২*) ভালো জুটি গড়েও

ম্যাচ শেষ করে আসতে পারেননি। এর আগে ইমতিয়াজ হোসেন তান্নার ৪৬ বলে ৬৬ ও মেহেদী হাসান মিরাজের ২৫ বলে ৩৩ রানের বড় সংগ্রহের পথ পেয়ে যায় খেলাঘর। আসরে এটি তাদের

দ্বিতীয় জয়।

মুশফিকের মতো গতকাল ব্যর্থ হন সাকিবও। বল হাতে ৪ ওভারে ১২ রানে ২ উইকেট নিলও ব্যাটিংয়ে কিছুই করতে পারছেন না সাকিব। শেখ জামালের সঙ্গে এদিন বাকিরাও ব্যর্থ হওয়ায় ১৬২ তাড়া করতে নামা মোহামেডান থামে ৮ উইকেটে ১৪৫ রানে। একমাত্র নাদীফ চৌধুরী ৪৩ বলে ৪ ছক্কা ও ৩ চারে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। সাকিবকে বোল্ড করাসহ ৩ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন অফস্পিনার মোহাম্মদ এনামুল। দলকে জয়ের পথে নিয়ে আসেন নুরুল হাসান সোহান। অধিনায়কের ৫ ছক্কা ও ৪ চারে মাত্র ৩৪ বলে ৬৬ রানের ইনিংসটি ছিল দারুণ। পারফেক্ট টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলা সোহানের প্রতিটি ছক্কাই গিয়ে পড়েছে গ্যালারিতে। শেষ ৬ ওভারে ১৭ বলে ৩৫ করা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন সোহান।

প্রাইম দোলেশ্বরের জয়টা সহজ ছিল না। সহজ করেছেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার অধিনায়ক ফরহাদ রেজা (১১ বলে ২৭) । শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ২১ রান। ১৯তম ওভারে মোহর শেখ টানা দুই বলে শামিম (২৬ বলে ২২) ও মার্শাল আইয়ুবকে ফেরান। নেমেই হ্যাটট্রিক বলটিকে ছক্কায় ওড়ান রেজা। পরের ওভারে টানা তিন বলে চার-ছক্কা ও সিঙ্গেল নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে একবার জীবন পাওয়া সাইফ হাসান ৩৫ বলে ৫০ ও ফজলে রাব্বি ৩৩ বলে ৪১ করে দোলেশ্বরকে জয়ের পথে রাখেন। সকালে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া শাইনপুকুর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৪৪, রবিউল ইসলাম রবির ৩৪ ও দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম (২৫) এবং সাব্বির হোসেনের (৩৬) ব্যাটে ভালো স্কোর গড়ে।