নাটোর সদর ও সিংড়ায় ৭ দিনের লকডাউন

নাটোরে সাত দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত নাটোর সদর এবং সিংড়া পৌরসভায় সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার গভীর রাতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

তবে লকডাউন চলাকালে সরবরাহ থাকবে জরুরি সেবা পণ্য।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের হওয়া যাবে না। মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক, স্বেচ্ছাসেবকরা জরুরি পণ্য সরবরাহ করবেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ।

সোমবার রাতে হঠাৎ করে করোনা প্রতিরোধ কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়।

ভার্চুয়াল ওই সভায় স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি সহ অনেকেই যুক্ত ছিলেন। সভা শেষে কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে গত সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ ছাড়া রোববার এই হার ছিল ৫১ শতাংশ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাটোরে গত ১১ থেকে ১৬ মে পর্যন্ত এক সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয় ১৪ জন। পরের সপ্তাহে ১৭ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ৪৯ জন। এ ছাড়া ২৪ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৩০ জন।

আর গত সপ্তাহের করোনার সংক্রমণ ছিল ১ জুন ৩২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ১৭ জন, যার হার ৫৩ দশমিক ২ জুন ৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ২৩ জন, যার হার ৫১ দশমিক ১৩, ৩ জুন ২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ১৪ জন, যার হার ৪৮ দশমিক ২৭, ৪ জুন ১২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ৩৭ জন, যার হার ২৯ দশমিক ৬, ৫ জুন ৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ৪ জন, যার হার ৪৪ দশমিক ৪৪, ৬ জুন ৪১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয় ২১ জন, যার হার ৫১ দশমিক ২১ ও সর্বশেষ আজ ৭ জুন ৫২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা ৬৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ হিসাবে নাটোরে গত সাত দিনে করোনা সংক্রমণের গড় হার ছিল ৪৩ দশমিক ৫৮ ভাগ।

নাটোর জেলায় মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮৯৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৫০১ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের।

আজ পর্যন্ত আক্রান্ত লোকজনের মধ্যে সদর হাসপাতালে ৩১ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছেন ৩৯ জন এবং হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৩৪৫ জন। সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে শনাক্ত রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা চলছে।