সদরসহ যশোরের ২ পৌরসভায় ‘বিধিনিষেধ’ আরোপ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় যশোরের দুটি পৌরসভায় লকডাউনের আদলে ‘বিধিনিষেধ’ আরোপ করা হয়েছে। পৌরসভা দুটি হচ্ছে- যশোর সদর ও অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভা।

মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিধিনিষেধের মধ্যে রয়েছে- সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ। মোটরসাইকেল ও রিকশায় একজন করে এবং অটোরিকশায় দুজনের বেশি চলাচল করতে পারবে না।

কমিটির মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. সায়েমুজ্জামান জানান, সভায় যশোরের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। প্রতিদিন যশোর পৌর এলাকা ও অভয়নগরের নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যশোর পৌর এলাকার দুটি ওয়ার্ডের চলমান বিধিনিষেধ যশোর পৌর এলাকার সব ওয়ার্ডে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এছাড়াও নওয়াপাড়ার দুইটি ওয়ার্ডের চলমান বিধিনিষেধ সকল ওয়ার্ডে সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে৷

এ বিধিনিষেধকে লকডাউন বলা যাবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাব অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট না দিলেও, আগের বিধিনিষেধ ঘোষিত দুইটি ওয়ার্ডে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সড়কে বাঁশ বেঁধে চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ভারত সীমান্তবর্তী যশোর জেলায় মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে করোনা শনাক্তের হার বাড়তে শুরু করে।

গত ৩ জুন শনাক্তের হার ছিল ২৫ শতাংশ। এরপর ৭ জুন তা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ শতাংশে। বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ৪২ শতাংশে গিয়ে ঠেকে।

গত ২৪ ঘণ্টায় এ জেলায় ২৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১২৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ পর্যন্ত জেলায় ৭ হাজার ৯৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮৩ জন। এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫৭ জন।