আপনার জিজ্ঞাসা

আত্মহত্যাকারীর জন্য দোয়া

মো. আশিকুল ইসলাম, গোপীবাগ, ঢাকা

প্রশ্ন : আত্মহত্যা করে মারা গেলে তার জন্য কী আত্মীয়-স্বজনরা দোয়া করতে পারবে?

উত্তর : আত্মহত্যাকারীর জন্য দোয়া করা যাবে। কেননা, যত বড় গোনাহগারই হোক; সে যদি ইমান থাকা অবস্থায় মারা যায় তবে তার জন্য ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করা জায়েজ। আত্মহত্যা কবিরা গোনাহ হলেও ওই ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যাবে। এক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘আমরা কবিরা গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া করতাম না। পরে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যখন শুনলাম, ‘আল্লাহতায়ালা তার সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করবেন না। শিরক ছাড়া যেকোনো গোনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন।’ আর আমি উম্মতের মধ্যে কবিরা গোনাহে জড়িয়ে যাওয়া লোকদের জন্য আমার সুপারিশের ক্ষমতাকে জমা করে রেখেছি এরপর থেকে আমরা তাদের জন্য দোয়া করতাম।’ মাজমাউয যাওয়ায়েদ : ১৭৬০১

অন্য এক হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন নবী কারিম (সা.) মদিনায় হিজরত করলেন, তখন তুফাইল ইবনু আমর এবং তার গোত্রের একজন লোকও তার সঙ্গে মদিনায় হিজরত করেন। কিন্তু মদিনার আবহাওয়া তাদের অনুকূল হয়নি। তুফাইল ইবনু আমর (রা.)-এর সঙ্গে আগত লোকটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তীর নিয়ে তার হাতের আঙুলগুলো কেটে ফেলল। এতে উভয় হাত থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে। অবশেষে সে মারা যায়।

তুফাইল ইবনু আমর দাওসি (রা.) স্বপ্নে তাকে ভালো অবস্থায় দেখতে পেলেন, কিন্তু তিনি তার উভয় হাত আবৃত দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার রব তোমার সঙ্গে কীরূপ ব্যবহার করেছেন? সে বলল, আল্লাহর জন্য তার নবী কারিম (সা.)-এর কাছে হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তুফাইল (রা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে যে, আমি তোমার হাত দুটি আবৃত দেখছি? সে বলল, আমাকে বলা হয়েছে যে, আমি তা দুরস্ত করব না, তুমি স্বেচ্ছায় যা নষ্ট করেছ। তুফাইল (রা.) নবী কারিম (সা.)-এর কাছে ঘটনাটি বর্ণনা করলেন। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করলেন-ইয়া আল্লাহ! আপনি তার হাত দুটিকেও ক্ষমা করে দিন। সহিহ মুসলিম : ১১৬

অতীত জীবনের ছোট-ছোট চুরি

মুহাম্মদ আমিনুর, শেরপুর, বগুড়া

প্রশ্ন : অতীতে অন্যের গাছের ডাব, পুকুরের মাছ ইত্যাদি চুরি করে খেয়েছি। এখন বুঝেছি, এগুলো অন্যায় ও পাপ। তাই জানতে চাচ্ছি, চুরির এই গোনাহ থেকে কীভাবে বাঁচব এবং ওই পাওনাগুলোর বিষয়ে কী করতে পারি?

উত্তর : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার কর্তব্য হলো ওই সব ফলমূল ও মাছ ইত্যাদির আনুমানিক ন্যায্যমূল্য সেগুলোর মালিককে পৌঁছে দেওয়া। মালিক জীবিত না থাকলে তার ওয়ারিশদের দিতে হবে। আর যদি মালিক কিংবা তার ওয়ারিশ জানা না থাকে, তাহলে ওই টাকা মালিকের পক্ষ থেকে ফকির-মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে। আর সর্বাবস্থায় আল্লাহর দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ২৩৫৯৪

টিকিট না কেটে ট্রেনের টিটিকে টাকা দিয়ে চলাচল

মুহাম্মদ হারুনুর রশিদ, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ

প্রশ্ন : ট্রেনে চলাচলকালে অনেক সময় টিকিট না থাকলে টিটিকে কিছু টাকা দিলে যাওয়ার ব্যবস্থা হয়। এটা কি জায়েজ?

উত্তর : টিকিট নেওয়া ছাড়া ট্রেনে যাতায়াত করা বৈধ নয়। নিয়মতান্ত্রিক রশিদ বা টিকিট গ্রহণ না করে টিটি কিংবা ট্রেনের অন্য কোনো দায়িত্বশীলকে টাকা দিলেও তা ভাড়া হিসেবে গণ্য হবে না। বরং সেটা হবে ঘুষ, যা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। সুতরাং এভাবে কখনো ট্রেনে ভ্রমণ করে থাকলে সমপরিমাণ মূল্যের সিটবিহীন টিকিট কেটে ছিঁড়ে ফেলবেন। এতে আপনি ওই অপরাধ থেকে মুক্ত হতে পারবেন। জামে তিরমিজি : ১৩৩৭