গত বছরের শুরুতে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার পর খেলাধুলার যে আসরটি প্রথম স্থগিত হয়েছিল সেটি ইউরো ২০২০। মরণ ভাইরাস করোনা সংক্রমণ এখনো থামেনি। তার সঙ্গে লড়াই করেই আজ থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ‘এ’ গ্রুপের ইতালি-তুরস্ক ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী টুর্নামেন্ট।
১৯৬০ সাল থেকে শুরু ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউরো-২০২০ মহাদেশের বিভিন্ন শহরে আয়োজনের উদ্যোগ নেয় উয়েফা। এ জন্যই ১১ দেশের ১১ শহরে হতে যাচ্ছে ৫১ ম্যাচ। আছে কিছু নতুনত্বও। করোনার কারণে গত বছর থেকেই তিনজনের জায়গায় ৫ বদলির নিয়ম চালু করে ফিফা, যা এবার কার্যকর হবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপেও। স্কোয়াড করা হয়েছে ২৩ জনের জায়গায় ২৬ জনের। প্রথমবারের মতো ইউরোতে ব্যবহার করা হবে ভিএআর প্রযুক্তি।
২৪ দল নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো হচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ। চার বছর (আসলে পাঁচ বছর) আগের টুর্নামেন্টটি হয় ২৪ দল নিয়ে। সেবার প্রথমবারের মতো ইউরো জেতে পর্তুগাল। এর আগে যে ইউরো আসরগুলো হয়েছে সবগুলোতেই মাঠভরা দর্শক উপস্থিতি থাকলেও এবার তা হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ইউরোর মাঠে দর্শকসংখ্যা কমানো হয়েছে। এবারই প্রথম ইউরোর চূড়ান্তপর্বে খেলছে উত্তর মেসিডোনিয়া এবং ফিনল্যান্ড।
ইউরোর ড্র অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে গ্রুপ ‘এফ’ নিয়ে। টুর্নামেন্টের গ্রুপ অব ডেথ এটি। ‘এফ’ গ্রুপে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং ইউরোর অন্যতম সফল দল জার্মানি (তিনবার জয়ী) আছে। তাদের সঙ্গে আছে হাঙ্গেরি। তবে পরের রাউন্ডে (শেষ ষোলো) যাওয়ার সুযোগ থাকছে এই গ্রুপের তিন বড় দলেরই। কেননা ইউরোর ফরম্যাট অনুযায়ী ছয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ছাড়াও সেরা তৃতীয় হিসেবে পরের রাউন্ডে যাবে চারটি দল।
৭০ হাজার আসনের স্তাদিও অলিম্পিকোতে করোনা পরিস্থিতিতে আজ প্রিয় দলের উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে মাঠে থাকতে পারবেন ১৬ হাজার দর্শক। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং একবার ইউরোজয়ী ইতালি দারুণ ফর্মে। আজ্জুরিরা সবশেষ ২৭ ম্যাচে অপরাজিত। অপরদিকে তুরস্ক অপরাজিত তাদের শেষ ছয় ম্যাচে। ফিফা র্যাংকিংয়ে ইতালি ৭ নম্বরে। তুরস্ক ২৯ নম্বরে। তুরস্কের সঙ্গে লড়াইয়ে কখনো হারেনি ইতালি। ১১ ম্যাচের ৮টিতেই জিতেছে তারা। বাকি তিনটি ড্র। ইউরোতে এর আগের তিন দেখাতেই জিতেছে ইতালি।
২০০৮ ইউরোর সেমিতে খেলা তুরস্কের জন্য এ ম্যাচে তুরুপের তাস হতে পারেন বুরাক ইলমাজ। ৩৫ বছরের স্ট্রাইকার লিলেকে ফরাসি লিগ জয়ে এবার ১৬ গোল করে বড় ভূমিকা রেখেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৬৭ ম্যাচে ২৯ গোলের ৫টি তিনি করেছেন সর্বশেষ চার ম্যাচে। আজকের ম্যাচ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমরা বড় দলের বিপক্ষে ভালো খেলি। আমাদের এই ম্যাচ জিততে হবে। মাঠে কোনো প্রতিপক্ষকেই ভয় পাই না আমরা। বাছাইপর্ব ও বিশ্বকাপে আমাদের পারফরম্যান্স তুরস্কের মানুষের আশা বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা নিজেদের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করব।’ ম্যাচ নিয়ে তুরস্কের কোচ সেনল গুনেস বলেছেন, ‘প্রথম ম্যাচের ফলাফলটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জয় বা ড্র গ্রুপের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।’
তুরস্কের যদি থাকে ইলমাজ তো ইতালির আছে চিরো ইম্মোবিল। গেল মৌসুমে সিরি আ’তে ২০ গোল করেন লাৎসিওর এই ৩১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। আগের মৌসুমে ৩৬ গোল করে গোল্ডেন শু জিতেছিলেন। ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় দলে খেলা ইম্মোবিল ৪৬ ম্যাচে করেছেন ১৩ গোল। ইতালি ২০১৮ বিশ্বকাপে মূল পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়। এরপর ইতালি দলের দায়িত্ব নিয়ে দলকে আমূল বদলে দিয়েছেন কোচ রবার্তো মানচিনি।