ফুটবলারদের বেতন কাঠামোয় আনার উদ্যোগ বাফুফের

পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে গ্রেড করা হবে। তাতে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা লড়াই তৈরি হবে। দেখা যায় খেলোয়াড়রা ২০ শতাংশ ইনজুরড, অথচ ওটাকে শতভাগ ইনজুরড বলে ক্যাম্প ছেড়ে যায়। আকর্ষণীয় বেতনের ব্যবস্থা থাকলে সবাই তখন সেরাটা দিতেই নিজেদের ফিট রাখতে চাইবে। কাজী সালাউদ্দিন

গত কয়েক বছরে জাতীয় দলের পেছনে বিনিয়োগ কম হয়নি। তারপরও ফলটা আশানুরূপ হচ্ছে না। বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের নিচের দিকেই থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ভারতের কাছে ২-০ গোলে হারায় আশার পালে জোর ধাক্কা লেগেছে আরও। জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার একটা কারণ বের করেছেন কাজী সালাউদ্দিন। বাফুফে সভাপতি ফুটবলারদের নিবেদনে ঘাটতি খুঁজে পাচ্ছেন। এর জন্য অবশ্য ফুটবলারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান না তিনি। বরং জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা বাড়াতে সালাউদ্দিন নিতে যাচ্ছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শীর্ষ ৩০ ফুটবলারকে তিনি চুক্তির আওতায় আনতে চান। তাদের দিতে চান আকর্ষণীয় বেতন। যাতে ফুটবলাররা লাল-সবুজ জার্সিতে সেরাটা দিতে সচেষ্ট থাকে।

সালাউদ্দিন মনে করেন ক্লাবে খেলে ফুটবলাররা যে টাকাটা পান, সেটা জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই ফুটবলারদের একটা আর্থিক স্বস্তি দিতে চাইছেন। গতকাল ইনজুরি ও অসুস্থতার কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া কয়েকজন ফুটবলারকে ডেকে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। পরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নতুন ভাবনার কথা, ‘খেলোয়াড়দের একটা বেতনের কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার কথা কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম। ক্লাব থেকে যা পায়, সমপর্যায়ের একটা অঙ্ক যদি আমরা শীর্ষ খেলোয়াড়দের দিতে পারি, জাতীয় দলে খেলার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে। বিষয়টা এমন ৩০ জনের একটা তালিকা হবে। শীর্ষ ১৫ জন পাবে একরকম বেতন। তার পরের ১০ জন আরেকটা বেতন। তারপরের ৫ জন আরেকরকম। পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে গ্রেড করা হবে। তাতে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা লড়াই তৈরি হবে। দেখা যায় খেলোয়াড়রা ২০ শতাংশ ইনজুরড, অথচ ওটাকে শতভাগ ইনজুরড বলে ক্যাম্প ছেড়ে যায়। আকর্ষণীয় বেতনের ব্যবস্থা থাকলে সবাই তখন সেরাটা দিতেই নিজেদের ফিট রাখতে চাইবে।’

জুনের শেষভাগে শুরু হবে স্থগিত থাকা পেশাদার লিগ। এ ছাড়া অন্যান্য খেলাও হবে। সেই খেলাগুলো থেকেই ৩০ জনকে বেছে নেবে বাফুফের টেকনিক্যাল টিম। পুরো প্রক্রিয়া সারতে ৯ মাসের মতো সময় লাগবে। ‘ইউরোপে একজন ফুটবলার যখন সপ্তাহে ২ কোটি টাকা বেতন পায়, তখন তার বেশি কিছু প্রয়োজন হয় না। আর আমাদের খেলোয়াড়রা বছরে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পায়। এই টাকা দিয়ে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ব্যয় সাধারণের চেয়ে অনেক বেশি। আমার এখানে যদি ফুটবলাররা সপ্তাহে ২ কোটি টাকা পেত, তাহলে এসব নিয়ে ভাবতে হতো না’ বলেন সালাউদ্দিন।

সভাপতির এমন ভাবনার প্রশংসা করেছেন ফুটবলাররা। গতকাল সালাউদ্দিনের সঙ্গে সভা করে গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানা বলেন, ‘বেতনের ব্যবস্থা করা হলে তা ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে ভালো হবে। সবাই তখন জাতীয় দলে সেরাটা দেওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকবে। গ্রেডিং সিস্টেমের কারণে সবাই চাইবে সেরা গ্রেডে সুযোগ পেতে।’ শেষ মুহূর্তে চোটের কারণে ক্যাম্প ছাড়া ফরোয়ার্ড সাদউদ্দিন বলেন, ‘এটা শুনে ভালো লাগছে যে প্লেয়ার জাতীয় দলে থাকলে একটা আর্থিক সহায়তা পাবে। তাতে আমাদের মধ্যে একটা দায়বদ্ধতার জায়গা তৈরি হবে।’