মন্ত্রী জামাইয়ের কাছে যাত্রাবিরতির দাবি

সম্প্রতি বিরামপুরের মেয়ে শাম্মী আকতারকে বিয়ে করেছেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ফলে বিরামপুরের জামাই হওয়ায় বিরামপুর ও পার্শ্ববর্তী হিলি স্থলবন্দরের রেল স্টেশনের আধুনিকায়ন, সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং পর্যাপ্ত আসনের দাবি করেছেন স্থানীয় সাংসদ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ১২ কিলোমিটার পূর্বে নবাবগঞ্জ উপজেলা, চৌদ্দ কিলোমিটার দক্ষিণে হিলি স্থলবন্দর এবং ৪৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ঘোড়াঘাট উপজেলা। নবাবগঞ্জ এবং ঘোড়াঘাটে কোনো রেলস্টেশন নেই। হিলিতে রেলস্টেশন থাকলেও আন্তঃনগর ট্রেনের পূর্ণাঙ্গ যাত্রাবিরতি নেই।

এর ফলে ওইসব উপজেলার হাজার হাজার ট্রেনযাত্রীকে বিরামপুর রেলস্টেশনের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হয়। আন্তঃনগর ট্রেনে অপ্রতুল আসন এবং রেলস্টেশনে পর্যাপ্ত সংস্কার না করায় অপর্যাপ্ত সেবার কারণে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম ভোগান্তি, সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। বিরামপুর রেলস্টেশনের বুকিং কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই স্টেশনে ঢাকাগামী আন্তঃনগর নীলসাগর, একতা ও দ্রুতযান, রাজশাহীগামী বরেন্দ্র ও তিতুমীর এবং খুলনাগামী সীমান্ত ও রূপসা ট্রেনের যাত্রাবিরতি রয়েছে। নতুন চালু হওয়া পঞ্চগড় এক্সপ্রেস এবং কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের কোনো যাত্রাবিরতি নেই।  হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ জানান, হিলি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর। ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য সারা দেশ থেকে হিলিতে ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন ভারতে যাতায়াতকারী শত শত ব্যক্তি হিলি ইমিগ্রেশন কেন্দ্র ব্যবহার করেন। কিন্তু বৈষম্যের কারণে রেল সেবা থেকে বঞ্চিত হিলিবাসীসহ শত শত যাত্রী।

স্টেশন মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, বিরামপুর রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন, সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি, আসন বৃদ্ধি ও যাত্রীদের সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত অবহিত করা হচ্ছে। দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট) আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক বলেন, রেলমন্ত্রী এমনিতেই উত্তরাঞ্চলের। তার ওপরে আমার আসনের জামাই হওয়ায় বিরামপুর এবং হিলি রেলস্টেশনের আধুনিকায়ন, গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-২ তে উন্নীতকরণ, বিরামপুর রেলস্টেশনে ফাঁড়ি স্থাপন, সব আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি এবং পর্যাপ্ত আসন নিশ্চিতের দাবি জানাই।