৪ শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা বাতিল

বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায় চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা ও তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর ঘটনায় থানার তৎকালীন ওসি মো. আবুল কালামসহ সাত পুলিশ সদস্য এবং সমাজসেবা অফিসারকে বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. এনায়েত উল্লাহর ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তাকে দেওয়ানি মামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লার ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে শিশুদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আব্দুল হালিম ও এএম জামিউল হক ফয়সাল। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

রায়ে আদালত সাত দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এগুলো হলো ১. চার শিশুকে গ্রেপ্তার ও থানা হেফাজতে আটক রাখা অবৈধ, ২. চার শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা বাতিল, ৩. বাকেরগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা, ৪. সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসারকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা, ৫. চার শিশুকে আটক করে প্রিজনভ্যানে করে আনা চার পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করে সাময়িক বরখাস্ত, ৬. চার শিশুকে যশোরের পুলেরহাট শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ফৌজদারি বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করে দেওয়ানি মামলার দায়িত্ব এবং ৭. শিশু আইন অনুযায়ী পুলিশের দায়িত্ব কর্তব্য গাইডলাইন আকারে প্রকাশ করে প্রত্যেক থানায় সার্কুলেট করতে হবে।

গত বছরের ৬ অক্টোবর বাকেরগঞ্জ থানায় মেয়েকে (৬) ধর্ষণের অভিযোগ এনে চারজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন এক বাবা। আসামিদের একজনের ১১ ও বাকি তিনজনের বয়স ১০ বছর করে। পরদিন বাকেরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে আসামিদের হাজির করা হলে বিচারক তাদের যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ওইদিন রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এ নিয়ে প্রতিবেদন ও শিশুদের কান্নারত ছবি নজরে এলে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ শিশুদের জামিন এবং নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে চার শিশুকে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয় যশোর জেলা প্রশাসন।

এরপর ১১ অক্টোবর আদালতের আদেশে চার শিশু, তাদের অভিভাবক, ম্যাজিস্ট্রেট, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা হাইকোর্টে হাজির হন। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত রুল জারি করে এবং তা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আদেশ দেয়। পরে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হয় চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন (সিসিবি) ও বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। শুনানির ধারাবাহিকতায় গতকাল এ মামলার রায় দিল সর্বোচ্চ আদালত।