ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর টানা এক যুগের শাসনের অবসান ঘটল। গতকাল রবিবার দেশটির পার্লামেন্টে নতুন সরকার গঠনের জন্য আস্থা ভোটে বিরোধী দলগুলোর নতুন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডান-বাম এবং মধ্যপন্থি সাতটি দলের সমন্বয়ে গঠিত নতুন একটি কোয়ালিশন সরকার ৬০-৫৯ ভোটে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এ অধিবেশন চলে। ভোট শেষে পরপরই দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক নাফতালি বেনেত।
নেতানিয়াহু এখন হবেন বিরোধীদলীয় নেতা। অবশ্য খুব শিগগিরই আবারও ক্ষমতায় ফিরে আসার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
কোয়ালিশন শরিকদের মধ্যে গত শুক্রবার সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকবেন কট্টর জাতীয়তাবাদী দল ইয়ামিনার নেতা বেনেত। তারপর তাকে ক্ষমতা তুলে দিতে হবে মধ্যপন্থি রাজনীতিক ইয়ার লাপিদের হাতে, যিনি নতুন এই কোয়ালিশন তৈরির মূল হোতা ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই বেনেতকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
৪৯ বছরের নাফতালি বেনেত একসময় নেতানিয়াহুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে দু’বছর তিনি নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৮ সালে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মনোমালিন্য তৈরির পর লিকুদ পার্টি থেকে বেরিয়ে কট্টর ইহুদি দল ‘জিউয়িশ হোম’ পার্টিতে যোগ দেন বেনেত। এরপর ২০১৩ সালে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন।
কট্টর ডানপন্থি আদর্শ নিয়ে বেনেতের কোনো রাখঢাক নেই। বিভিন্ন সময় বড়াই করে তিনি বলেছেন, নেতানিয়াহুর চেয়েও তিনি বেশি ডানপন্থি। উদারপন্থি ইহুদিদের সুযোগ পেলেই উপহাস করেন। অধিকৃত পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম এবং সিরিয়ার কাছ থেকে দখল করা গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের স্থায়ী কর্র্তৃত্ব এবং সার্বভৌমত্ব কায়েমের পক্ষে তিনি। পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের কট্টর সমর্থক তিনি। একসময় তিনি ইহুদি বসতি-স্থাপনকারীদের সংগঠন ইয়েশা কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। তাকে মানুষ চেনে ‘বসতি-স্থাপনকারীদের নেতা’ হিসেবে।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী তিনি। বিভিন্ন সময় ফিলিস্তিন সমস্যাকে তিনি ইসরায়েলের ‘পশ্চাৎদেশের ওপর বিষফোঁড়া’ বলে বর্ণনা করেছেন। এমনকি ইসরায়েলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান না থাকলেও ফিলিস্তিনি উগ্রবাদীদের ধরে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি।
যে সাতটি দলের কোয়ালিশনে শরিক হিসেবে বেনেত প্রধানমন্ত্রী হলেন সেখানে ইসলামপন্থি একটি আরব দল ছাড়াও মেরেতজের মতো বামপন্থি দল রয়েছে, যারা পশ্চিম তীরে ইহুদি দখলদারিত্বের ঘোর বিরোধী।