জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম নির্বাচন কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নেওয়ার বিষয়টি সরকারের রাজনৈতিক কূটকৌশল হতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। তাই দলটি এ সংক্রান্ত সরকারের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছে। গতকাল শনিবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করেছি। শিগগিরই এ বিষয়ে আমাদের দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে দেশবাসীকে জানাব।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সুশীল সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ এই কার্যক্রম ইসির অধীনেই রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছে।’
২০১০ সালে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনটি পাস হওয়ার পর একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ এনআইডি বিভাগ তৈরি করা হয়েছিল। ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে ছবিযুক্ত এনআইডি কার্ড ইস্যু শুরু হয়েছিল। গত ২৪ মে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম ও লোকবল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্দেশনা দেয়। এর জবাবে ইসি এনআইডি কার্যক্রম তাদের অধীনে রাখার যুক্তি তুলে ধরে চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইসি কর্মকর্তারা এ কাজে দক্ষ ও পারদর্শী। এনআইডি কার্যক্রমের জন্য পৃথক কোনো প্রযুক্তিগত সুবিধা ও লোকবল নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকার ভোট ছাড়া পুলিশের সহযোগিতায় ক্ষমতায় আছে। এখন এনআইডি কার্যক্রম পুলিশের অধীনে নিয়ে সরকার তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার কাজে লাগাবে। পরবর্তীকালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের কূটকৌশলের অংশ হিসেবে এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এনআইডি কার্যক্রম এতদিন ইসিতে ছিল। এখন যাবে পুলিশের অধীনে। তার মানে চোরের কাছ থেকে এখন ডাকাতের কাছে নেওয়া হচ্ছে। ইসির বিরুদ্ধে জনগণ কথা বলতে পারলেও পুলিশের বিরুদ্ধে গিয়ে জনগণ কিছু করতে পারবে না। তাই ইসি এনআইডি কার্যক্রম নিজেদের কাছে রাখতে চাইলেও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক প্রকার জোর করে এটি করতে চাইছে।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘দেশের সব মানুষের হাঁড়ির খবর যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাখতে পারে, সে জন্য ইসি থেকে এনআইডি কার্যক্রম স্বরাষ্ট্রে নিতে চাচ্ছে সরকার। দেশ ও দেশের জনগণকে পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব করছে। কারণ এখন কোনো নাগরিকের তথ্যের প্রয়োজন হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এনআইডি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিতে হয়। সে ঝামেলা যাতে পোহাতে না হয় সে জন্য সরকার পুলিশের হাতে দিতে চায় এনআইডি কার্যক্রম।’