ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নায়িকা পরীমণি। উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও অমিসহ ছয়জনকে আসামি করে ঢাকাই সিনেমার এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী গতকাল সোমবার সকালে ঢাকার সাভার মডেল থানায় অভিযোগ জমা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুপুরে প্রধান আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করে পরীমণি বলেন, ‘চার দিনে আমি ভীষণ ভেঙে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম আমার পাশে কাউকে পাব না। আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও মনে হয়েছে। এত দ্রুত প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন ভরসা পাচ্ছি। বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করছেন।’
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত কিনা জানতে চাইলে গতকাল পরীমণি বলেন, ‘দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার হওয়ায় আমি এখন ভরসা পাচ্ছি। চার দিন ধরে খুব অসহায় লাগছিল, কাউকে পাশে পাইনি। এখন আসামি গ্রেপ্তারের পর আইনের প্রতি আমার আস্থা বেড়েছে। আইনের মধ্য দিয়ে আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত হবে, এটাই প্রত্যাশা।’
এদিকে পরীমণির প্রতি সংহতি জানিয়ে গত রবিবার রাত থেকে সোচ্চার হয়ে উঠেছে ঢাকার শোবিজ অঙ্গন। ন্যায়বিচারের দাবিতে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন চলচ্চিত্র, টিভি নাটকের নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীরা। সহকর্মীর ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে ‘জাস্টিস ফর পরীমণি’ হ্যাশট্যাগে ফেইসবুকে সোচ্চার হয়েছেন জয়া আহসান, ভাবনা, গিয়াসউদ্দিন সেলিম, নাবিলা, অমিতাভ রেজা, অনিমেষ আইচ, রুনা খান, নওশাবা আহমেদ, ঊর্মিলা শ্রাবন্তী কর, মিশু চৌধুরী, কায়েস আরজু, অপূর্ব রানা, শ্রাবণ্য তৌহিদাসহ বেশ কয়েকজন অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতা। তারা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।
তবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি না দেওয়ার সমালোচনা হচ্ছে ফেইসবুকে। অনেকেই বলছেন, বছরজুড়ে মশক নিধন অভিযান, পিকনিক ও ভোটের প্রচারে অংশ নিয়ে আলোচনার খোরাক জোগালেও একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর ঘটনায় তারা এখন চুপ কেন?
নায়িকা পরীমণি জানিয়েছেন, ঘটনার পরদিন শিল্পী সমিতিকে বিষয়টি অবহিত করা হলেও তারা কোনো সহযোগিতা করেনি।
সমালোচনার মুখে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছি। আমরা পরীমণির পাশে আছি। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। মামলা নিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে অ্যারেস্টও করেছে। এখন এটার আর প্রতিবাদ কী হওয়া উচিত? আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্ত হোক ও সুষ্ঠু বিচার হোক।’
এর আগে গত রবিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে পরীমণি বলেছিলেন, ‘আমি সুইসাইড করার মতো মেয়ে না। আমি যদি মরে যাই, আপনারা বুঝবেন আমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি সুইসাইড করতে পারি না। আমি সুইসাইড করব না। আমি আমার বিচার নিয়ে মরব। আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, বিচার চাই। আমি আজকে মরে গেলে..., আমি সুইসাইড করি নাই, সবাই জেনে রাখেন। আর আমাকে যদি কেউ মারে, আমি যদি মরে যাই; আপনারা বিচার কইরেন, আল্লাহর কসম।’