মালিবাগে বাসচাপায় কলেজছাত্রের মৃত্যু

মায়ের চিকিৎসা করানো হলো না মেহেদীর

রাজধানীর রামপুরা বনশ্রীর বোনের বাসা থেকে অসুস্থ্য মাকে আনতে যাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান রানা (১৯)।  উদ্দেশ্য ছিল মাকে নিজের কাছে রেখে চিকিৎসা করাবেন। কিন্তু মায়ের চিকিৎসা করানোর সুযোগ পেলেন না মেহেদী। লাশ হয়ে ফিরলেন মায়ের কাছে।  

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়া এলাকায় দুই বাসের চাপায় নিহত হন মেহেদী। তার মরদেহ নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে। মঙ্গলবার সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতর সৃষ্টি হয়। বড় ছেলে মেহেদীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন মা রানী বেগম। মর্গে ছেলের লাশের অপেক্ষায় নিস্তব্ধ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায় রানী বেগমকে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয় মেহেদীকে।

এ ঘটনায় ঘাতক দুই বাস আটক করলেও চালক ও তার সহকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সন্ধ্যা পর্যন্ত এঘটনায় কোনো মামলাও হয়নি। 

মেহেদীর স্বজনরা জানান, খুলনা সোনাডাঙা উপজেলার আনিছুর রহমানের ছেলে মেহেদী। দুই ভাইবোনের মধ্যে সে বড়। খুলনার একটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে দুবছর আগে চাকরির জন্য ঢাকায় আসেন। ঢাকায় মগবাজার ওয়ারলেস এলাকায় দুর্সম্পর্কের চাচাতো ভাই রাফসানের বাসায় থাকতেন।

রাফসান দেশ রূপান্তরকে জানান, কয়েকদিন আগে মেহেদীর মা রানী বেগম চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসেন। ঢাকার রামপুরা বনশ্রীতে মেহেদীর বোনের বাসায় ছিলেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় মেহেদী মাকে সেখান থেকে ওয়ারলেসের বাসায় নিয়ে আসতে যাচ্ছিল। সন্ধ্যার পরপরই মেহেদীর ফোন থেকে খবর পাই সে দুই বাসের চাপায় মারা গেছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার লাশ দেখতে পাই।

হাতিরঝিল থানার উপপরিদশর্ক (এসআই) মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, তুরাগ পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী ছিলেন মেহেদী। রামপুরাগামী বাসটি মালিবাগ ফ্লাইওভার থেকে চৌধুরীপাড়া নামার সময় বাসের জানালা দিয়ে মাথা বের করেছিল সে। তখন একই দিকগামী আকাশ পরিবহনের বাসের সঙ্গে তুরাগ পরিবহনের বাসটির পাশাপাশি চাপা লাগলে জানলা দিয়ে মাথা বের করে রাখা মেহেদী ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা করেনি নিহতের পরিবার। তবে দুটি বাসকেই আটক করা হয়েছে। চালক ও সহকারীরা পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।