ওমানের সাইড বেঞ্চের সামনেও ছন্নছাড়া বাংলাদেশ

বাংলাদেশের বিপক্ষে নিজের সাইড বেঞ্চটাকে ঝালিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন ওমানের অভিজ্ঞ ক্রোয়াট কোচ ব্রাঙ্কো ইভানকোভিচ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচের একাদশের নয়জনকে বিশ্রামে রাখেন এই কোচ। অথচ বাংলাদেশকে হারাতে ওমানের সাইড বেঞ্চই যথেষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। ছন্নছাড়া ফুটবলে বাংলাদেশ ম্যাচটা হেরেছে ৩-০ গোলে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপের যৌথ বাছাইয়ের দ্বিতীয়পর্ব বাংলাদেশ শেষ করেছে আরেকটা হতাশার হার দিয়ে। আট ম্যাচে জয়হীন বাংলাদেশকে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের তলানির পরিণতি বরণ করতে হয়েছে।

পয়েন্ট তালিকার দ্বিতীয় স্থান আগেই নিশ্চিত হওয়া ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশও খেলেছে খর্ব শক্তির দল নিয়ে। সম্প্রতি জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করা অনেকেই নানা কারণেই ছিলেন না এই ম্যাচে। র‌্যাংকিংয়ে ১০৪ ধাপ এগিয়ে থাকা ওমানের উপর্যুপরি আক্রমণের সামনে তাই বড্ড নাজুক রূপে দেখা যায় বাংলাদেশকে। অথচ প্রথম লেগে ৪-১ গোলে হারা ম্যাচেও এতটা সমন্বয়হীন দেখা যায়নি জেমি ডে’র শিষ্যদের।

আগের সাত ম্যাচে ১৬ গোল হজম করা বাংলাদেশকে ১৮ মিনিটে গোললাইন ক্লিয়ারেন্সে নিশ্চিত গোল খাওয়ার হাত থেকে বাঁচান মোহাম্মদ ইব্রাহিম। চার মিনিট পর অবশ্য ওমানের গোলের সিরিজ চেষ্টায় আসে প্রথম সফলতা। বাঁ-দিক থেকে খালিদ কালিফার আড়াআড়ি পাসে পা ছোঁয়ানোর আনুষ্ঠানিকতা সারতে ভুল করেননি আল ঘাফরি। ২৯ মিনিটে ম্যাচে একমাত্র গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। আব্দুল্লাহর কর্নারে ইয়াসিন আরাফাতের হেড ফিস্ট করে রুখে দেন ওমান কিপার ঈশা ফাইজ। বিরতি থেকে ফেরার পরের চিত্রও একই। জেমির কোনো কৌশলই এই ম্যাচে কাজ করেনি। বরং ভুল পাস, উদ্দেশ্যবিহীন পাসে নিজেদের দৈন্যই বারবার প্রকাশ করেছেন তপু বর্মনরা। ৬১ মিনিটে খালিদ কালিফার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় ওমানের। আল ঘাফরির কাটব্যাকে খালিদ জোরালো শটে গোল করেন। ৮১ মিনিটে বদলি জাহির আল আকবারীর কাটব্যাকে খালিদ নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন। দুঃস্বপ্নের এক মিশন শেষে এখন বাংলাদেশকে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয়পর্ব নিশ্চিতে খেলতে হবে প্লে-অফ। সেই বাধা উতরাতে না পারলে ফের নেমে আসবে আন্তর্জাতিক নির্বাসন।