বিভিন্ন বইয়ের আদলে প্রধান ফটক নির্মাণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার একটি কলেজ।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দেশ-বিদেশের নামকরা লেখকদের ৫০টি বই দিয়ে সেই গেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এই গেট।
কলেজটির নাম ‘দই খাওয়া আদর্শ কলেজ’। প্রতিষ্ঠানটি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে হাতীবান্ধা-চাপারহাট আঞ্চলিক সড়কের পাশেই কলেজটির অবস্থান।
দূর থেকে দেখলে প্রথমে কেউ বুঝতেই পারেন না। কিন্তু কাছে গেলে চোখে পড়বে বইয়ের আদলে গড়ে তোলা আদর্শ কলেজের প্রধান গেটটি।
দেশি-বিদেশি জগৎ বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক ও লেখকদের ৫০টি বই দিয়ে দুই সিঁড়ি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে গেটটি।
গেটটির ঠিক মাঝ খানে হাতের মুঠোয় অঙ্কিত রয়েছে গ্লোব। গেটটি এক নজর দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন অনেকেই।
অনেকে দাঁড়িয়ে নিবিষ্ট মনে কথা সাহিত্যিকদের নামগুলো পড়ছেন। গেটটি পেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা মিলবে দৃষ্টিনন্দন এক শহীদ মিনার। সেখানেও রয়েছে বইয়ের ছোঁয়া।
জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে হাতীবান্ধা দইখাওয়া আদর্শ কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সীমান্তবর্তী কলেজটির শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই নিম্নবিত্ত পরিবারের।
কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রবেশ পথের গেটটি নির্মাণ করার চেষ্টা ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে সেই চেষ্টায় কিছুটা ভাটা পড়ে যায়।
গত বছরের এক সিদ্ধান্তে আবার শুরু হয় প্রচেষ্টা। কলেজের সৌন্দর্য বাড়াতে একটি দৃষ্টিনন্দন একটি গেট তৈরি করতে হবে। যেই চিন্তা সেই কাজ। পরে সারা দেশে ওই প্রতিষ্ঠানের ছড়িয়ে থাকা প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষকেরা।
সেখানেই চারুকলার শিক্ষার্থী সহযোগিতা চায় কলেজের শিক্ষকতা। সেই মোতাবেক শিক্ষার্থীরা রাজি হয়ে গেট নির্মাণের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা সরবরাহ করেন নির্মাণসামগ্রী।
কলেজের অধ্যক্ষ কলেজের ফান্ড থেকে কিছু টাকা বরাদ্দ দিয়ে নির্মাণকাজ শুরু করে।
একটানা ১ বছর কাজ শেষে তৈরি করা হয়েছে গেটটি।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে এই দৃষ্টি নন্দন ফলকটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যের সর্বমোট ৫০টি বই দিয়ে তৈরি করা হয় গেটটি।
কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আজিজুল হক সোহান বলেন, বই দিয়ে কলেজের গেট তৈরি হতে পারে সেটি কোনো দিন কল্পনাতেও আনতে পারিনি। কিন্তু তৈরি পর এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র হিসেবে এখন বুকটা গর্বে ভরে যায়।
দই খাওয়া আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ২০০৪ সঙ্গে কলেজটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে প্রতিষ্ঠানটিতে। ফলাফলও ছিল আশানুরূপ।
সবার সিদ্ধান্তক্রমে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে কলেজে একটি গেট তৈরি করতে হবে।
সে কারণে দেশ-বিদেশের কথা সাহিত্যিক ও লেখকদের ৫০টি বই দিয়ে এটি নির্মাণ সমাপ্ত করা হয়েছে। এটি নির্মাণ করতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে সত্যিকারের একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।