ডিপথেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। রোগটি সব বয়সীরই হতে পারে। তবে শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তিরা এই রোগে আক্রান্ত হয় বেশি।
ডিপথেরিয়ায় গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে। মূলত (Corynebacterium diphtheriae) নামক ব্যাকটেরিয়া ডিপথেরিয়ার জন্য দায়ী। এই রোগে গলার নিচের পুরু পর্দার আচ্ছাদন (ডিপথেরিক মেমব্রেন) পড়ে। ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রোগে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া, প্যারালাইসিস, কিডনি নষ্ট হতে পারে এবং এমনকি রোগীর মৃত্যুরও আশঙ্কা থাকে। আরেক ধরনের ডিপথেরিয়ার প্রদাহে শরীরের ত্বক আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের ডিপথেরিয়া সহজেই একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। তবে টিকার মাধ্যমে এর প্রতিকার করা যায়।
লক্ষণ
ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। আবার অনেকের সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ থাকে। দৃশ্যমান উপসর্গের মধ্যে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া। জ্বর, শরীর ঠান্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলাব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের পর শরীরে প্রচুর টক্সিন তৈরি হয়। এই টক্সিন রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ যেমন হৃৎপিন্ড, মস্তিষ্ক, কিডনি ইত্যাদি অঙ্গের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর ফলে হৃৎপিন্ডের প্রদাহ বা মায়োকার্ডাইটিস, প্যারালাইজড ও কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
প্রতিকার
টিকা দেওয়ার মাধ্যমে ডিপথেরিয়া রোধ করা যায়। এই টিকা দিলে বাচ্চার ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার ও হুপিংকাশি রোগেরও প্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মাবে। টিকা ২ মাস, ৪ মাস, ৬ মাস, ১৫-১৯ মাস ও ৪-৬ বছর বয়সে দিতে হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকবে ১০ বছর পর্যন্ত। তাই ১২ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে আবারও টিকার বুস্টার ডোজ দিতে হবে। এছাড়া ধনুষ্টংকার-ডিপথেরিয়ার (ঞফ) টিকা নিতে হয়। যা প্রতি ১০ বছর পরপর দিতে হয়।
চিকিৎসা
আক্রান্তদের মাংসপেশিতে অ্যান্টি-টক্সিন ইনজেকশন দিতে হয়। তবে অ্যান্টি-টক্সিন দেওয়ার আগে অ্যালার্জি টেস্ট করে নিতে হবে। অ্যান্টি-টক্সিন ছাড়াও কারও কারও জন্য অ্যান্টিবায়োটিকও দেওয়া হয়।